ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ডেকোরেটরের মালামাল সরানোর অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতা হলেন সংগঠনটির যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা বাঁধন স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আজিজ ডেকোরেটরের প্রায় ৫০টি চেয়ার, বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাবল সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার আগে ডেকোরেটরের মালিকের সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কথা কাটাকাটি হয়।
আজিজ ডেকোরেটরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মেইন গেটের কাজ চলাকালে কিছু সামগ্রী আনতে আমরা দোকানে যাই। ফিরে এসে দেখি চেয়ার, বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাবল নেই। কে বা কারা এসব সরিয়েছে, তা আমরা জানি না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, ‘ডেকোরেটরের মালিকের সঙ্গে আমার পূর্বে ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। শুক্রবার আবার কথা-কাটাকাটি হয়। তবে মেইন গেট থেকে আমি কোনো মালামাল সরাইনি।’
আজিজ ডেকোরেটরের মালিক বলেন, ‘একজনের সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তবে কাউকে খারাপ কথা বলা হয়নি।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে সাদ্দাম হোসেন হলের একটি গেস্টরুমে ডেকোরেটরের কিছু সামগ্রী রয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় একটি কক্ষ পান। পরে হলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তালা খুলে ভেতরে চেয়ার, বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাবল দেখতে পান। তবে কে বা কারা এসব সামগ্রী সেখানে রেখেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি হল কর্তৃপক্ষ।
হলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তুহিন বলেন, ‘আমার ডিউটি শুরুর আগেই কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। আগের কর্মকর্তার কাছ থেকে চাবি পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কিছু করলে তা সংগঠনের দায় নয়।’
এদিকে ছাত্রশক্তির আয়োজিত একটি প্রচারণা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান। অভিযোগপত্রে মেইন গেট থেকে ডেকোরেটরের মালামাল কীভাবে সাদ্দাম হলে পৌঁছায়, তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে অভিযোগপত্রে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিনিধি/ক.ম




