মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শাকসু নির্বাচন

৮ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, প্রশাসনিক ভবনে তালা

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

৮ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, প্রশাসনিক ভবনে তালা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আটজন নির্বাচন কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ এবং নির্বাচন স্থগিতের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা ও সড়ক অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।


বিজ্ঞাপন


দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আটজন শিক্ষক ইতোমধ্যে কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ মো. আতিকুল হক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শাকসু নির্বাচন কমিশনে মোট ১৫ জন কমিশনার ছিলেন, এর মধ্যে ৮ জন সোমবার দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কমিশনারদের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদিরের মোবাইফোনে কল করা হলে তিনি কেনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে পদত্যাগপত্র ভিসি কার্যালয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক নিশ্চিত করেছে।

কোন আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে অধ্যাপক রেজোয়ান আহমেদ (শাওন) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে  নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আর পালন করতে চাই না।’


বিজ্ঞাপন


এদিকে নির্বাচন যথাসময়ে করার দাবিতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভিসি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক সাস্ট চ্যাপটার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্যসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। পরে বেলা দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপটারের সদস্যসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র সঙ্গে দেখা করেছি। রিটের রায় যদি শাকসু নির্বাচনের বিরুদ্ধে আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দ্রুতই যাতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন যথাসময়ে হতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কিছু শিক্ষক অসহযোগিতা করছেন, তবে তারা অসহযোগিতা করলেও নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। শাকসু নির্বাচন বানচাল কখনোই প্রত্যাশিত নয়, নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত শিক্ষকেরা।’ সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনিক ভবনে তালা

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন যথাসময়ে শাকসুর নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভরত প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগের খবরে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন। এখন তারা সড়কে অবস্থান নেবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্যে’ এর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়েই হতে হবে। একটু আগে খবর পাই যে কমিশন থেকে আটজন বিএনপিপন্থী শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। আমাদের আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোর হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বেলা একটায় বৈঠকে করেন শাকসু নির্বাচনের প্রার্থীরা। বৈঠক শেষে স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার জানান, নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে হাইকোর্টে যে রিট হয়েছে, এর ফল নেতিবাচক হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।

এর আগে সোমবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর করা রিটের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শাকসু নির্বাচনসহ তিনটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

কর্মসূচিতে শাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর