বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমরা পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে আছি। এই সময়টাতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সারা বিশ্ব যেভাবে চলছে, আমাদেরকেও সেভাবে চলতে হবে। আমাদেরকে একটা জায়গায় গিয়ে থামতেই হবে। তবে এ কাজ করতে পলিসিগত কিছু বিষয় নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আরব আমিরাত আমাদের কাছে ২৫ হাজার হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কর্মী চাচ্ছে। অথচ আমরা বছরে তৈরি করি মাত্র ৪০০ কর্মী। আমাদের কাছে এ মুহূর্তে যদি দক্ষ কর্মী থাকত, তাহলে এখনই তাদেরকে পাঠানো যেত। এখন যারা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই প্রশিক্ষণ ছাড়াই যাচ্ছে। কিন্তু এই অপ্রশিক্ষিত লোকেরাই বছরে ৫০-৬০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। যদি প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো যায়, তাহলে আগামী ৫ বছরে রেমিট্যান্স আসবে ১০০ বিলিয়ন ডলার।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার বিষয়ে ভিসি আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমি যোগদানের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও আইসিটি বাধ্যতামূলক কোর্স হিসেবে চালু করেছি। এ কোর্সে ছেলে-মেয়েরা ক্লাস করছে এবং পরীক্ষা দেবে। তবে আইসিটি শিক্ষকের সংখ্যা কম ছিল, সেজন্য সারাদেশে ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষকের ট্রেনিং চলছে। আশা করছি আগামী সেমিস্টার থেকে আইসিটি পড়াতে উপযুক্ত এমন ১২ হাজার শিক্ষক পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার করার দরকার ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা করা হয়নি। আমরা আসার পর ৩০-৩১টি সংস্কার করেছি। এর ভেতরে সিলেবাস পরিবর্তন, নতুন নতুন সিলেবাস আপলোড হচ্ছে এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করেছি। এই প্রথমবারের মতো মাত্র ৪৯ দিনে বড় একটি পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। পাস কোর্সের রেজাল্ট আমরা ৬০ দিনে দিয়েছি। অনার্সের একটা রেজাল্টও আমরা মাত্র ৫০ দিনে দিয়েছি।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ৭০ শতাংশ উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এর ভেতরে যে নৈরাজ্যকর অবস্থা ছিল, আমরা সেটিও সক্ষমতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছি। দেশের আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা গভর্নিং বডি দিয়েছি। যেখানে সমাজের নামিদামি ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন। এতে কলেজগুলো নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গে পড়ালেখার পরিবেশও ফিরে এসেছে।’
প্রফেসর আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বাজারমুখি শিক্ষাব্যবস্থা অনুপস্থিত। আমরা সে জায়গাতে হাত দিয়েছি। আমরা জ্ঞান উৎপাদন করব এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজও গড়ে তুলব। আমাদের ছেলে-মেয়েরা গ্র্যাজুয়েশন নেওয়ার পরও যদি চাকরি না পায়, তাহলে এ ডিগ্রির মূল্য কী? আমরা সে জায়গায় হাত দিয়েছি। এটি নিয়ে কাজ করার জন্য আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও চায়নার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। সব মিলিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন যেমন নিয়ন্ত্রণে আসছে, তেমনি আগামী বছরখানেকের ভেতরে পড়ালেখা নিয়েও অসন্তুষ্টি থাকবে না।’
ইনকোর্স নিয়ে ঝামেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইনকোর্স নিয়ে একটি মহাঝামেলা ছিল। সেজন্য ইনকোর্সের সমস্ত খাতা আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছি। এতে ইনকোর্সের প্রতিও মানুষের গুরুত্ব বেড়েছে এবং ছেলে-মেয়েরা ক্লাসমুখি হয়েছে।’
তার মতে, ‘এখন যে শিক্ষাব্যবস্থা চলছে, এটা চলতে পারে না। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারমুখি করার জন্য নতুন যে সরকার আসবে, তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। এ লক্ষ্যে এখন থেকেই আমরা সকলের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছি।’
এএইচ

