মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

তৈরি হচ্ছে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’, কিছুক্ষণ পর শুরু আন্দোলন কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

7 college

রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১২ থেকে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মঞ্চকে ঘিরে কিছুক্ষণ পরই শুরু হবে আন্দোলন। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তেরি করছেন শিক্ষার্থীরা। চলছে সাজানো গুছানোর কাজ। আর সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা কলেজসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে নানা স্লোগান দিচ্ছেন তারা।


বিজ্ঞাপন


আর কিছুক্ষণ পরই অধ্যাদেশ জারির একদফা দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হাসান মামুন বলেন, অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

‘দীর্ঘ সময় ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। নানাভাবে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা নিজেদেরকে বিকশিত করার সুযোগ পায়নি। অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার অবসান হবে’, বলেন আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থী।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষা ফারহানা আফরিন বলেন, আমরা দ্রুত অধ্যাদেশ চাই।


বিজ্ঞাপন


‘সাত কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। আমরা শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন চাই। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া প্রকাশ করলেও তা এখনো অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়নি। গত ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অধ্যাদেশ জারি করা হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাধিক প্রতিনিধি জানান, সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ থেকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে পরবর্তী ‘কঠোর কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হবে।

সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির মুখপাত্র মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাদেশের ব্যাপারে কোনো প্রকার নেগেটিভ খবর হলে ‘মার্চ ফর যমুনা’ হতে পারে। তবে, পজেটিভ খবর হলে বৃহৎ আনন্দ মিছিল বের হয়ে ঢাকা বিচরণ করবেন শিক্ষার্থীরা।’

এরআগে গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মোড় অবরোধ করায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। আজ মঙ্গলবারও গণজমায়েতকে কেন্দ্র করেও সায়েন্সল্যাব ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া রোববার (১৮ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়- এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো যাচ্ছে।’

অন্যদিকে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ থেকে দেশবরেণ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য সুধীজনদের আকৃষ্ট করবেন। পাশাপাশি দেশবাসীকে দাবির যৌক্তিকতা বোঝানো হবে- কেন এখনই অধ্যাদেশ প্রয়োজন।’

এসএইচ/এএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর