প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, এ ধরনের অনিয়ম তরুণ ও মেধাবী চাকরি প্রার্থীদের স্বপ্ন ও সততার ওপর নির্মম আঘাত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় দলটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরি ব্যবস্থায় বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল— চাকরি পরীক্ষায় সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রণয়ন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এনসিপি অভিযোগ করে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর গুণগত পরিবর্তনের বদলে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যে অধিক মনযোগী হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং শহীদদের রক্তের প্রতি চরম অবমাননা।
এই পরিস্থিতিতে এনসিপি চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করা; প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা মিললে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের কোনো ধরনের অবহেলা বা অবজ্ঞা দেখা যায়, তবে এনসিপি চাকরি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে শামিল হয়ে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখবে।
এমআর/এএইচ

