বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে আদর্শ, সততা ও ত্যাগের জায়গা দখল করে নিচ্ছে গ্রুপিং, স্বার্থপরতা ও রাজনৈতিক কুটিলতা- এমন মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লেখায় তিনি বলেন, দলীয় পদের সর্বোচ্চ সম্মানিত চেয়ারগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংগঠনের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও গ্রুপস্বার্থ বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, ‘নিজের গ্রুপকে শক্তিশালী করতে অনুগতদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই এখন রাজনীতির বড় বাস্তবতা।’
গ্রুপিং রাজনীতির সমালোচনা করে আসলাম বলেন, প্রত্যাশিত পদ না পেলে যোগ্য ব্যক্তিকেও মেনে না নেওয়া এবং তাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের প্রমাণ। একই সঙ্গে নিজেকেই একমাত্র যোগ্য মনে করার প্রবণতা নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রোটোকলের নামে সাধারণ মানুষ ও নিরীহ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে আসলাম বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজের বড় ভাইকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য সম্মানিত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
বক্তৃতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জনের প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, তিন মিনিটের বক্তব্যে দুই মিনিটই কোনো একজন নেতাকে অতিমানবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাস্তবতার চেয়ে কর্মকাণ্ডকে অতিসফলভাবে দেখানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মবিং ও ট্যাগিং রাজনীতিকে আরও কলুষিত করছে।
তিনি আরও বলেন, সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জায়গায় পারস্পরিক হিংসা, অসৌজন্য ও প্রতিহিংসা বাড়ছে। এমনকি নিজ গ্রুপের স্বার্থে সমষ্টিগত দলীয় অর্জন বিসর্জন দিতেও অনেকে দ্বিধা করছে না।
নেতৃত্বের ভুলকে অন্ধভাবে সঠিক প্রমাণ করা, কপটতা ও গালমন্দকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং পদের মূল্যায়নে দ্বিচারিতা রাজনীতিকে গভীর সংকটে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এএইচ
