জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টির ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ ফল অনুযায়ী শীর্ষ তিন পদেই এগিয়ে আছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কখনো এক পক্ষ এগিয়ে থাকলেও নতুন কেন্দ্রের ফল যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে ব্যবধান।
বিজ্ঞাপন
প্রকাশিত ২৮ কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী ভিপি পদে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৩ হাজার ২৯৮ ভোট এবং শিবির–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৭২৯ ভোট। ফলে মোট ভোটের হিসাবে রিয়াজুল এগিয়ে আছেন ৪৩১ ভোটে।
ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ–সমর্থিত ভিপি প্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, এখনো অনেক কেন্দ্রের ফল ঘোষণা বাকি আছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট যুক্ত হলে ফল তাঁদের পক্ষেই আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখছেন।
শিবির–সমর্থিত ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে আমরা এগিয়ে আছি। শেষ পর্যন্ত গণনা সম্পন্ন হলে এই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
এদিকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোট ভোটের হিসাবে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল। জিএস পদে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৫ ভোট এবং শিবির–সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৮৮ ভোট। এজিএস পদে ছাত্রদল–সমর্থিত বি এম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ২ হাজার ৮০৮ ভোট এবং শিবির–সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৩৭ ভোট।
বিজ্ঞাপন
ভোটগণনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু সময় গণনা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে ম্যানুয়াল ও মেশিন—দুই পদ্ধতিতে ফল যাচাই করে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, সব কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করতে কিছুটা সময় লাগলেও নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে।
এদিকে শীর্ষ তিন পদসহ অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে শিবির–সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে থাকলেও পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক—এই দুটি পদে এখনো ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। নির্বাহী সদস্য পদগুলোর মধ্যেও ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
জকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৯ জন। প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৪২ জন; সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) এবং একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়। বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ছয়টি ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোটগণনা শুরু হয়। তবে গণনার তথ্যে গরমিল দেখা দেওয়ায় কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকে। পরে গভীর রাতে আবার শুরু হয় গণনার কাজ।
এআর

