দুর্গাপূজা উদযাপনে ঝিনাইদহে মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৮২তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নন্দিনী সরকার।
শনিবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরের দিন সকালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নন্দিনীর সহপাঠী কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সানজিদ অপূর্ব বিন সিরাজ বলেন, পূজার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নন্দিনী একসাথে অনেক রিচ ফুড খেয়েছিল। আশপাশের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর ছিল না। ফলে শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সাথে সাথেই পালস বেড়ে যায়, ঘামতে থাকে এবং গ্যাসের ব্যথা দেখা দেয়।
তিনি আরও জানান, রাত ১২টার দিকে স্বজনরা নন্দিনীকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক ওয়াশ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরদিন মানিকগঞ্জ ফেরার পরিকল্পনার কারণে নন্দিনী এতে রাজি হননি। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাসায় ফিরে যান। তবে শনিবার রাতে তার অবস্থা আবারও খারাপ হয়। অতিরিক্ত ঘামতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা ফ্যানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাতেও স্বাভাবিক হয়নি নন্দিনী। পরে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পথে তিনি মারা যান। রাত তিনটার দিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ধারণা, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্তও হয়ে থাকতে পারেন।
নন্দিনীর ছোট বোন বিনা সরকার জানান, আপু কিছুটা অসুস্থ ছিল কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থাকত, কিন্তু নিয়মিত খাবার খেত না। শরীর দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, দাঁড়াতে কষ্ট হতো। এর মধ্যে ঠাণ্ডা লেগেছিল। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছিলেন। সেগুলো খেয়ে ভালো লাগছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু রাত ১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজন মিলে শৈলকুপা হাসপাতালে নিয়ে গেলে অক্সিজেন দিয়ে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানেই আর কোনো কথা বলেনি। শৈলকুপা থেকে রওনা হওয়ার সময় তার রক্তচাপ ছিল ৭০/১০০। ডিম-স্যালাইন খাওয়ানো হয়েছিল। কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে আর রক্তচাপ মাপা যায়নি।
নন্দিনী কোনো পানীয় খেয়েছিল কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজ খোলার পর পরীক্ষা থাকায় সারাদিন পড়াশোনা করেছে। রাতে আমাদের সঙ্গে মন্দিরে গিয়েছিল। সেখানে কিছুই খায়নি। আমি সারাক্ষণ তার সঙ্গে ছিলাম।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, মামাবাড়িতে বেড়াতে এসে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে।
নন্দিনী সরকার মানিকগঞ্জ জেলার গিলন্দ গ্রামের অনিল চন্দ্র সরকারের মেয়ে।
এআর




