শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের কর্তৃত্ব হারাল গভর্নিং বডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের কর্তৃত্ব হারাল গভর্নিং বডি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের কর্তৃত্ব হারাল গভর্নিং বডি।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্য পদে নিয়োগ আর গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকছে না। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, অফিস সহায়কসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এখন থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে হবে। কমিটিতে থাকবেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা তাঁর প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়), জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালক এবং সদস্যসচিব হিসেবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জারিকৃত এই পরিপত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা, দায়িত্ব ও বিধিনিষেধ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও স্নাতক পাস কলেজে শিক্ষক ছাড়া ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, অফিস সহায়কসহ অন্যান্য পদের জন্য নিয়োগ সুপারিশ ও নিয়োগপত্র ইস্যুর নির্দেশনা এই পরিপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হলো।

এতে বলা হয়, নিয়োগ কমিটির কাছ থেকে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রার্থীকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নিয়োগপত্র পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র না পাঠালে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও স্থগিতসহ বিধিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া দায়িত্বহীন আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এ নির্দেশনার বাস্তবায়নে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। নতুন পরিপত্রের ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল হয়েছে।

শূন্যপদ নিরূপণ প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী যথাযথ যাচাই করে শূন্য বা নবসৃষ্ট পদের বিবরণী তৈরি করবেন এবং তা প্রতিবছর ৩১ আগস্টের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারে পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করবেন। অধিদপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।

প্রাপ্যতাবিহীন পদের জন্য নিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 
সুপারিশ পাওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে সভা করে নিয়োগ রেজুলেশন পাস করতে হবে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর আবেদনে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে বিষয়টি জানাতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর একটি নির্ধারিত টেমপ্লেট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে, যা নিয়োগপত্র ইস্যুর জন্য ব্যবহার করতে হবে।

নিয়োগপত্র ইস্যু থেকে শুরু করে শূন্যপদ নিরূপণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।

বিইউ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর