পিএইচডি সনদ ছাড়া ডক্টরেট লেখার অভিযোগ জবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২, ০৫:৩২ এএম
পিএইচডি সনদ ছাড়া ডক্টরেট লেখার অভিযোগ জবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে পিএইচডি শেষ না করেই গত কয়েকমাস ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডকুমেন্টে নিজের নামের পাশে ডক্টরেট লেখার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পিএইচডি সনদ আসার আগেই তিনি অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে পিএইচডি সনদ ছাড়া অধ্যাপক হওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

সূত্রমতে জানা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের পিএইচডি ডিগ্রির সনদ এখনো আসেনি। কিন্তু তিনি তার নামের পাশে গত কয়েকমাস ধরেই ডক্টরেট লিখে আসছেন। এছাড়াও অধ্যাপক পদে আবেদনের জন্য পিএইচডি ডিগ্রির মূল সনদ দরকার হয় কিন্তু তিনি মূল সনদ ছাড়াই আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগামী ২৫ জুন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নিয়োগের বোর্ড বসবে বলেও জানা গেছে। নিয়োগ বোর্ড বসার তারিখ দেওয়ার আগে ডিপার্টমেন্ট থেকে প্ল্যানিং করতে হয়।

এই প্ল্যানিং করার আগেই বোর্ড বসার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২২জুন) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ৫ সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য আব্দুল কাদেরের অধ্যাপক নিয়োগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং প্ল্যানিং কমিটির সভায় তিনি পিএচডি সনদ জমা দিতে পারেনি বলেও জানা যায়।

এর আগে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিতে প্রভাষক পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা লাগলেও আবদুল কাদের সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন ২ বছর ১৪ দিনে। তিনি প্রভাষক পদে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এছাড়াও ২০১৭ সালে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পর পিএইচডি ডিগ্রির সনদ প্রদান করবেন বলে জানান কিন্তু গত ৬ বছরেও তিনি তা জমা দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, আমার পিএইচডি সার্টিফিকেট এসেছে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাক্তিগত ফাইল থাকে সেই ফাইলে আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে সনদ পাঠানো হয়েছে। সম্ভবত জুনের ৫ তারিখে আমি সার্টিফিকেটটা পেয়েছি। তবে পিএইচডি সার্টিফিকেট দেখানোর কথা বললে তিনি বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাইন করা একটি ডকুমেন্টস দেখান যা মূল সনদপত্রের মতো নয়।

পিএইচডি সনদ আসার আগেই নামের পাশে ডক্টরেট লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির নিয়মকানুন বিভিন্ন রকম। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছি সেখানে দুই ধরণের ডিফেন্স হয় একটি হলো পাবলিক ডিফেন্স আরেকটি প্রাইভেট ডিফেন্স। আমার প্রাইভেট ডিফেন্সে আটজন জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন। ওখানে আমেরিকান প্রফেসরও ছিলেন। প্রাইভেট ডিফেন্সের দুইমাস পর পাবলিক ডিফেন্স হয়। যেদিন পাবলিক ডিফেন্স হয়ে যাবে ওই দিন থেকে ডক্টরেট লেখা যায়। এটার সঙ্গে সার্টিফিকেটের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি বেলজিয়ামে ছিলাম ওখান থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছি মাত্র একমাস হলো তাই সার্টিফিকেট আসার কয়েকমাস আগে ডক্টরেট লেখার বিষয়টি সত্য নয়।

প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হতে তিন বছরের কম সময় নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সহকারী অধ্যাপক হতে সাড়ে তিন বছর লেগেছে। আমি আগে আরেকটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি ওটাসহ আমার সাড়ে তিন বছরের অভিজ্ঞতা ছিলো। কিন্তু এবিষয়ে তিনি পূর্বের কর্মক্ষেত্রের কোনো কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক জানান,  আমি যতটুকু জানি উনি (আব্দুর কাদের) পিএইচডি সার্টিফিকেট পেয়ে গেছেন। প্ল্যানিং হওয়ার আগে অধ্যাপক নিয়োগের বোর্ড গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, এরকম ডেট অনেক থাকে আবার দুদিন পরে বাতিল হয়ে যায়। 

পিএইচডি সনদ পাওয়ার আগে নামের আগে ডক্টরেট লিখলে কোনো ধরণের ব্যাবস্থা নেয় যায় কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরকম লিখিত কোনো কিছু নেই। ওনাকেই (আব্দুল কাদের) জিজ্ঞেস করো, সঠিক না বেঠিকভাবে ডক্টরেট লিখছেন।