জগন্নাথের প্রধান ফটকের সামনে খোঁড়াখুঁড়ি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

মিলন হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম
জগন্নাথের প্রধান ফটকের সামনে খোঁড়াখুঁড়ি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবির) প্রধান ফটকের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসির) ড্রেনের কাজ চলছে। কিন্তু কাজ অসম্পন্ন রেখেই চলে গেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক থেকে শুরু করে শাঁখারী বাজারের মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০০০ মিটারের বেশি অংশজুড়ে একই রকম চিত্র। এর ফলে ডিএসসিসির উন্নয়নমূলক কাজ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন ফুটপাতের পুরাতন ড্রেন খোঁড়া শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু গত ৮ জুন ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ড্রেনের পুরো কাজ শেষ না করে চলে যায়। পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনের উপরের ঢাকনা অথবা কোনো ধরনের সাবধানতা অবলম্বন না করে ড্রেনের ঢাকনা উন্মুক্ত রাখে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন আমাদের প্রধান ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। ফুটপাতের ড্রেনের অসম্পূর্ণ কাজের জন্য আমাদের রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে ক্যাম্পাসের সামনে বিশাল আকারের যানজট এবং পাশাপাশি রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

জাহিদুল আরও বলেন, অসম্পূর্ণ ড্রেনের কাজ আমাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। আমরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছি না। রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া এটি প্রধান ফটকের সামনে হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার বিভাগের শিক্ষার্থী আলি হায়দার আকাশ বলেন, আমরা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ড্রেনের কাজ না হওয়ায় ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছি না। এতে করে আমাদের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রাস্তায় চলন্ত গাড়ির মধ্যে দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।

আকাশ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা যেমন এই পথ দিয়ে চলাচল করে নিয়মিত তেমনি শিক্ষকদের গাড়িসহ সদরঘাট অভিমুখী মানুষের ঢল নামে এ পথে। তাই কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আমরা অচিরেই সমাধান চাই ড্রেনের অসম্পূর্ণ কাজের। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে এবং মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী মোহাম্মদ প্যারিসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস ঢাকা মেইলকে বলেন, ক্যাম্পাসের আশেপাশের বিষয়ে আমরা জানি না। আমাদের যেখান থেকে বলা হয়েছে কাজ করতে, আমরা সেটা করেছি। আমি গতকাল গিয়ে দেখে এসেছি, বাকি কাজটা এখনও করা হয়নি।

কাউন্সিলর বলেন, আগামীকালই আমি কন্ডাক্টরকে বলেছি কাজটি করে দিয়ে আসতে। কিন্তু ক্যাম্পাসের সামনের ভাঙা অংশে আমাদের কিছু করার নেই, সেটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা জানেন। 

প্রতিনিধি/জেবি