সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নরসিংদীর একটি স্কুল নজর কেড়েছে সবার। নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস নামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২০ জন শিক্ষার্থীর সবাই পেয়েছেন জিপিএ–৫। শতভাগ সাফল্য নিয়ে যখন প্রতিষ্ঠানটি আলোচনায়, ঠিক তখনই সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য—জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা উল্লেখ করা হয়।
তবে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার নিশ্চিত করেছে, এই তথ্য ভুল ও মিথ্যা। তাদের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এসএসসিতে চমকপ্রদ ফল করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে দাবি করছেন যে, এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে রয়েছেন জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা হলেন দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা। যিনি একজন ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত।

শুধু তাই নয়, থার্মেক্স গ্রুপের এই কর্ণধার কাদির মোল্লা নরসিংদীতে একাধিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর ভালো ফলাফল করছে শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালের এসএসসিতে তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ জিপিএ–৫ পাওয়ায় সামাজিকমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি ছড়ানো হয় গুজবও।
রিউমর স্ক্যানার এই তথ্য যাচাই করে উল্লেখ করে, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ও ব্যবসায়ী কাদির মোল্লা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। শুধু নামের মিল থাকায় গুজব ছড়ানো হয়েছে।
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি রিউমর স্ক্যানার বলছে, শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিতর্কিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
এদিকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্ট জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট কিছু পেজ বা ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে শেয়ার করতে দেখা গেছে। ফলে এই বিভ্রান্তি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এইউ




