স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী। এতে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকরাও।
রোববার (৫ মে) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
এ সময় ফিলিস্তিনের পক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্য এবং স্লোগান দিয়ে টিএসসি প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আব্দুল্লাহ সালমান ও তার বন্ধুরা গান পরিবেশন করেন। এছাড়াও ফিলিস্তিনের পক্ষে কবিতা আবৃত্তি করেন আবিদ হাসান রাফি, হাসিবুর রহমান, শাহিনুর রহমান।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের সমাবেশে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া খ্যাত ইসরায়েল আজ সর্বস্তরের ফিলিস্তিনির ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কারণে শুধু ফিলিস্তিন নয় সারা বিশ্বের মানুষ আজ অশান্তিতে ভুগছে। আমেরিকার শিক্ষার্থী বন্ধুরা শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেছিল বলে আজকে তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের সংহতি সমাবেশ৷ আমরা আজ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানাই আমেরিকার সেই সাহসীদের প্রতি।’
জয়েন উদ্দিন সরকার তন্ময় নামে অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার বক্তব্যে বলেন, ‘যুগের পর যুগ দমিয়ে রাখা হয়েছে ফিলিস্তিনের জনসাধারণকে। তবে এবার গণবিস্ফোরণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ফিলিস্তিন স্বাধীন হবেই। আমাদের মধ্যেও চাই ফিলিস্তিনি চেতনা যার বলে বলীয়ান হয়ে আমরাও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারি।’
বিজ্ঞাপন

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাত বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬০০ জন পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। ১০ হাজার নারী শহীদ হয়েছেন, ১৯ হাজার নারী আহত হয়েছেন, ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে ৩০টিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। সুপেয় পানি নেই, খাদ্যও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের মনে হচ্ছে যেন ফেরাউনের ঘরে মুসা নবী৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে চাই- সকল প্যালেস্টাইনি স্বাধীনতা পাক।’
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, ‘আজকের উপস্থিতি জানান দেয় আমরা ফিলিস্তিনকে কতটা ভালোবাসি। আমরা ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশাল্লাহ। যারা ইসরায়েলকে সাপোর্ট করবে ইসরায়েলের সাথে আঁতাত রাখবে তাদের সর্বস্তরে বয়কট করা হবে।’
আইন বিভাগের শিক্ষক নকিব নসরুল্লাহ বলেন, ‘মানবতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের যে পরিস্থিতি করেছে তা সারা বিশ্বের সব মানুষ জানে। ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার জন্য মুসলিম হওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়াই যথেষ্ট। পৃথিবীর ইতিহাসে এত অল্প সময় এত বেশি নারী হত্যা শিশু হত্যা হয়নি, যেমনটা ফিলিস্তিনে হয়েছে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে। আশার বাণী হলো, সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী, একই সাথে বাইডেনও যুদ্ধাপরাধী। কারণ একমাত্র আমেরিকাই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিপক্ষে ভেটো দিয়েছে। তাদের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে।’
ম্যানেজমেন্টের ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমাদের উপস্থিতি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য না, সারা বিশ্বে চলমান সন্ত্রাসবাদ নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে। সারা বিশ্বের ইতিহাসে সবচাইতে ওয়েল ডকুমেন্টেড জেনোসাইড ফিলিস্তিনের গণহত্যা। এরকম জোনোসাইড নিয়ে যাদের তালবাহানা সে বিশ্বব্যবস্থাকে আমাদের প্রয়োজন নাই।’
প্রতিনিধি/জেবি




