জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরে

মিজানুর রহমান জাবি
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২, ০৯:৫০ এএম
জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরে
ছবি : ঢাকা মেইল

ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের দাপট। তীব্র তাপদাহে জনমনে ক্লান্তি। তবে এরই মাঝে প্রশান্তি বয়ে আনছে রঙিন ফুল। ভিনদেশী ফুলের চোখ ঝলসানো সৌন্দর্যে গরম হাওয়া কিংবা পিচ গলানো গরমেও মোহিত হচ্ছে মানুষের মন। গরমে এক পশলা বৃষ্টির মতো এ যেন চোখের তৃপ্তি। এভাবে গরমে অতিষ্ঠ পথচারী ও দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে চলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

ক্যাসিয়া রেনিজেরা নামটি দেশে কম পরিচিত। জাপানি ফুলের প্রজাতিটি মোহনীয় সৌন্দর্য ও সৌরভে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবার নজর কাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, পুরনো কলাভবনের ভেতরে, জহির রায়হান অডিটরিয়ামসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফুটেছে ক্যাসিয়া রেনিজেরা। চলতি পথে মানুষ থমকে দাঁড়াচ্ছে ক্যাসিয়ার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

ক্যাসিয়া রেনিজেরার বৈজ্ঞানিক নাম বার্মিজ পিংক ক্যাসিয়া (Burmese Pink Cassia)। গাছের উচ্চতা হয়ে থাকে সাধারণত আট থেকে দশ মিটার। চিকন ডালগুলো সাধারণত নিচের দিকে ঝুলে থাকে। রোপণের চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই গাছে ফুল আসে। বর্ষা ছাড়া বছরের মোটামুটি বেশির ভাগ সময়ই গাছ থাকে পাতাহীন। বসন্তে নতুন পাতা গজানোর পর ফুল ধরতে শুরু করে। প্রথমদিকের গোলাপী ফুল ক্রমেই সাদা আকার ধারণ করে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু করে এপ্রিল-মে পর্যন্ত ফুলের দেখা মেলে।

২০০২ সালে অধ্যাপক এ আর খান ক্যাসিয়ার বীজ থেকে চারা তৈরি করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি স্থানে রোপণ করেন। এর কয়েক বছর পর সেসব গাছে ফুল ফোটে। বিগত এক দশক ধরে ক্যাম্পাসে বছরের এই সময়টিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে গোলাপি রাঙা এ ফুল। রাজধানীর গুলশানে এ ফুল দেখে এ আর খান বিশ্ববিদ্যালয়ে চারা রোপণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী অংশনু মারমা বলেন, ‘গ্রীষ্ম এলেই ক্যাম্পাসে বাহারি রঙের ফুলের উৎসব শুরু হয়ে যায়। সঙ্গে সবুজের নতুন পাতা এক অপরূপ আবহ সৃষ্টি করে। ক্যাসিয়া দেখতে চেরি ফুলের মতো হলেও এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই ফুল ফোটার সময় গাছের সব পাতা ঝরে যায়। তখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

এইউ