গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতির আপন সাজে সেজেছে কুবি ক্যাম্পাস

জুবায়ের রহমান কুবি
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২, ০৯:২৪ এএম
গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতির আপন সাজে সেজেছে কুবি ক্যাম্পাস
ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টি শেষে চারদিকে ঝলমলে আলোর ছটা। শিমুলের ডালে ঘাপটি মেরে বসেছে হুতুম পেঁচা। লাল মাটির চাকচিক্যে সবুজ পাতা দিচ্ছে বসন্তের ছোঁয়া। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ফুটেছে প্রকৃতি রাঙানো ফুল। তবে এ ফুল ঋতুরাজ বসন্তের নয়। চৈত্রের খরা শেষে কাঠফাটা রোদের হাহাকারের।

ঋতুরাজ বসন্ত পেরিয়ে সময় এখন গ্রীষ্ম। কালবৈশাখী ঝড় শেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন চিরসবুজ উদ্যান। জারুলের ডালে বসেছে দোয়েল, কৃষ্ণচূড়ায় মিশে গিয়েছে বুড়ো শালিকের দল। আর সোনালু গাছটা জুড়ে বেড়েছে ভ্রমর, মৌমাছিদের ভিড়। দূর পাহাড়ের মগডালে কুহু কুহু ডাকে মাতম ভর-দুপুর। প্রকৃতির এমনই সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দিচ্ছে ঈদ শেষে ক্যাম্পাস ফেরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত প্রধান ফটক থেকে শুরু করে লাল পাহাড় পেরিয়ে এই সৌন্দর্যের দেখা মিলে শহীদ মিনার পর্যন্ত। কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, কাঠগোলাপ ও বনফুলের সাজ প্রকৃতিকে করে তুলেছে মোহনীয়। যেন বাড়ি থেকে ক্যাম্পাস ফেরত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এক অঘোষিত উৎসব। 

গোল চত্বর, অনুষদ ভবনগুলোর পথ জুড়ে যেন বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের চাদর। রং-বেরঙের দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে রয়েছে লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, কামিনী, জবা, বেলি, স্বর্ণচাপা ও নাম না জানা অসংখ্য পাহাড়ি ফুল।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে ঈদের প্রথম ভাগেই ক্যাম্পাসে আসেন একদল শিক্ষার্থী। তাদেরই একজন সাদেক মিয়া। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের যেকোনো স্থানের প্রকৃতি ও আবহাওয়ার চাইতে ভিন্ন। এখানে রোদ, বৃষ্টি কিংবা শীত সমানতালে চলে। যেদিকে তাকাবেন শুধু নানা রঙের ফুল আর ফুল। আর বৃষ্টি হওয়ার ফলে গাছ-পালা ও লাল মাটির ঘাসগুলো আরও সবুজ হয়ে উঠে। যেন সবার সঙ্গে প্রকৃতিও মেতেছে ঈদ পুনর্মিলনীতে। নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছে আবারও সৌন্দর্য বিলিয়ে দিতে।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিমোহিত করেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদেরকেও। শালবন বৌদ্ধ বিহার, বৌদ্ধ মন্দির ও বিনোদন কেন্দ্র ম্যাজিক প্যারাডাইসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ছুটে এসেছেন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

ঢাকা থেকে শালবন বৌদ্ধবিহারে পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন আরফানুল রিফাত। ছেলে-মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয় দেখাতে এসে মুগ্ধ হয়ে উঠেন তিনি। তিনি বলেন, একটু স্বস্তির জন্য কোটবাড়ির সৌন্দর্য দেখতে আসা। পুরো কোটবাড়ি অঞ্চল যতটা সৌন্দর্যে মেতেছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মেতেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কর্মব্যস্ততা ফেলে ক্যাম্পাসে ছুটে আসা আমাদের স্বার্থক হয়েছে। 

এদিকে আগামী ১৬ মে খুলবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ধীরে ধীরে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। ক্যাম্পাসটি কুমিল্লা নগরীর অদূরে হওয়াতে সহসাই পরিবারসহ নগরবাসী এখানে ছুটে আসছেন এক বুক নিঃশ্বাস ফেলতে।

এইউ