সোনালুর আভায় রঙিন হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

তানভির আহমেদ হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২, ০৮:১৭ এএম
সোনালুর আভায় রঙিন হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

চারদিকে তীব্র রোদ্দুর, বইছে তপ্ত বাতাস। গ্রীষ্মের গরমে জনজীবন হয়ে পড়েছে ওষ্ঠাগত। তবে কাঠফাটা রোদকে সঙ্গী করে উজ্জ্বল সোনালী আভায় আলাদাভাবে সবার দৃষ্টি কাড়ছে একটি গাছ। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের (সেকেন্ড গেট নামেই বেশি পরিচিত) গা ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত সোনালু ফুলের গাছটি নিজের আভায় রঙিন করে তুলেছে ক্যাম্পাস মুখ।  

ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতুর পালাবদলের সাথে মিতালি করে নানান রূপে নিজেকে রাঙায় এই ক্যাম্পাস। সবুজে-শ্যামলে ভরপুর এই বিদ্যাপীঠে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ন্যায় অভিভাবক ও পর্যটকদের মনকেও দেয় প্রশান্তির দোলা। 

ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় ক্যাম্পাসটিকে আলাদাভাবে চোখে পড়ে সবার। ফুল, ফল ও নানান ঔষধিগুণসম্পন্ন গাছে ভরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে সোনালুর গাছটিকে তাই আসতে-যেতে চোখে পড়ে সবার। দিনের সূর্য অস্তমিত হলে রাতের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় নিজের অস্তিত্বকে আলাদাভাবে জানান দেয় সবুজ পত্রপল্লবে ঘেরা সোনালী রঙের ফুলগুলো। মনে হয় যেন সোনার চেইন পরে আছে গাছগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোয়ার্টার ঘেঁষে সীমানা প্রাচীরের পাশে চোখে পড়ে কিছু সোনালু ফুলের গাছ। এসব গাছে এখন মৌমাছিদের বাস। মৌ-মৌ গন্ধে বিভোর প্রকৃতি। সোনালুর বুক থেকে মধু লুটতে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছিরা। তাদের গুঞ্জনে মুখর থাকে সন্ধ্যার পরের ক্যাম্পাস। বোটানিক্যাল গার্ডেন চলে যায় মৌমাছি ও পাখিদের দখলে। তাদের কিচিরমিচির শুনে মনে হবে যেন সন্ধ্যার ফাঁকা ক্যাম্পাসে এখন তাদেরই রাজত্ব।
sonaluবোটানিক্যাল গার্ডেনে আড্ডা দিতে দেখা যায় কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে। প্রতিবেদককে তারা বলেন, ‘গ্রীষ্ম এলেই জারুল, হিজল, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর ফুলে প্রকৃতি স্বরূপে সজ্জ্বিত হয়। ব্যতিক্রম নয় হাজী দানেশ ক্যাম্পাস। এই সবুজ বৃক্ষে ফুলের সমাহার ক্রমাগত মুগ্ধ করছে আমাদের।’

প্রকৃতির এ আয়োজন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ভালোবাসার এক অপার প্রাপ্তি। প্রকৃতির রুক্ষতা ও যান্ত্রিকতার রুদ্ধশ্বাস ভুলিয়ে যা আমাদের দেয় অপার প্রশান্তি।

হলুদের আভা ছড়ানো এই চত্বরে বিকেলের পর নবীন-প্রবীন শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মুখরিত থাকে। কেউবা হলুদের সঙ্গে মাতিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত আবার কেউ এ চত্বরে বসে আড্ডা দিতে ভালোবাসেন। হলুদ রঙের চেইনের মতো এই ফুল খোপায় জড়িয়ে ছবি তুলতে ভুল করেন না তরুণীরা।

সোনালী রঙের ফুলের বাহার থেকেই ‘সোনালু’ নামে নামকরণ। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস।

সোনালু গাছের শাখা ছাপিয়ে ঝুমকোর মতো ঝুলে আছে হলুদে ছাওয়া ফুলগুলো। এটির ফল গোলাকার লম্বাকৃতির। দেখতে একটি লাঠির মত। তাই এটিকে অনেকে লাঠি গাছ বলে চেনেন। আবার বানরের বেশ প্রিয় খাবার এই ফল। তাই কেউ কেউ এটিকে বানর লাঠি বলেও চেনেন। ইংরেজি ভাষায় একে বলা হয় ‘golden shower tree’.

জানা যায়, সোনালুর ফল পাকতে দীর্ঘ সময় নেয়। পেকে গেলে ফল মাটিতে পড়ে সেখান থেকে বীজ ছড়িয়ে বংশ বিস্তার ঘটায়। কলমের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার সম্ভব হয় না। তবে গাছের শেকড় থেকেও বংশ বিস্তার ঘটে থাকে। সোনালু ঔষধি গাছের তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে সোনালুর ফল বাত ও বমি প্রতিরোধে সাহায্য করে। সোনালু এ দেশের স্থায়ী বৃক্ষ। তবে এর আদি বাস পূর্ব এশিয়ায়।

এএ