সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

টিএসসিতে নামাজের জায়গা নিয়ে তুলকালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

টিএসসিতে নামাজের জায়গা নিয়ে তুলকালাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের নামাজের স্থান নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। নামাজের স্থানে জায়নামাজ ও কার্পেট গুটিয়ে নিয়ে সেখানে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার কারা একাজ করেছে তা কেউ বলতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষ এখন বলছেন টিএসসিতে নামাজের জায়গার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা চিন্তাভাবনা করছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেখানে গেছে তাতে তারা নামাজের জায়গা করার বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে টিএসসিতে স্থায়ীভাবে নামাজের জায়গা করার দাবি জানাচ্ছিলেন। দুদিন আগে সেখানে ছাত্ররা কার্পেট বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। কিছু ছাত্রী মঙ্গলবার পাশেই র্পদা টাঙিয়ে নামাজ আদায় করেন। এরপর কে বা কারা মেয়েদের টাঙানো পর্দা খুলে ফেলে এবং নামাজের কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে দেয়।

tsc

 গতকাল দিনভর এনিয়ে সামাজিক মাধ্যম এবং কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যত ওইস্থানে আর নামাজ আদায় হয়নি। গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নামাজের স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু কারা নামাজের কার্পেট সরিয়ে নিয়েছে এবং তালাই বা মারল কারা তার হদিস পাওয়া যায়নি। 

মেয়েদের টানানো পর্দা ও কার্পেট কে সরিয়েছে বা কারা সরিয়েছে জানেন না দায়িত্বরত কেউই। সিসিটিভি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা নষ্ট হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন টিএসসি পরিচালক সৈয়দ আলী আকবর ৷ 

সিসিটিভি ফুটেজ ও ছাত্রীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, গতকাল ছাত্র-ছাত্রীরা যখন নিজেরা আমাদের মতের বাইরে নামাজের স্থানের ব্যবস্থা করতে যায় তখন আমরা তাদেরকে অনুরোধ করি যেন ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ১০দিনের সময় দেওয়া হয় ৷ কিন্তু তারা আমাদের কথা রাখেননি। উপাচার্য কথাটি শুনে খুব ক্ষুব্ধ হন। টিএসসি প্রতিষ্ঠার পর হতে এখানে নামাজের স্থান নেই। এতদিন বিষয়টা সহ্য হলেও আর ১০টা দিন তাদের সহ্য হয় নি ৷ তাদের এমন কর্মকাণ্ডের পর আমরা আর তাদের কথা রাখতে পারি না ৷ কারণ ভিসি স্যার অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব৷ তিনি তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও তারা যখন এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে তাতে আমরা আর আমাদের কথা রাখতে পারছি না৷ 

আর সিসিটিভি স্থাপনের ছয় মাস পর থেকেই তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে৷ আইসিটি অফিসে কয়েকবার আমি আবেদন করেছি। এছাড়াও এখন পর্যন্ত আমি বারবার উর্ধ্বতন মহলে এ বিষয়ে জানালেও তারা তা ঠিক করার কোনো ব্যবস্থা নেন নি৷ আর গতকাল রাতে কে বা কারা মেয়েদের নামাজের সরঞ্জাম সরিয়েছে তা আমরা জানিনা। তবে পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য সেখানে তালা মারা হয়েছে এবং দুপুরের পর তা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে৷  

টিএসসির নামাজের এই স্থান নিয়ে গত কয়েকদিন চরম উত্তেজনা কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে৷  এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছিল বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা। 

শিক্ষার্থীদের একদল বলছেন টিএসসিতে নামাজ পড়তে না দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। আবার আরেকদল বলছেন পাঁচ মিনিট দূরে কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়তে সমস্যা কি? টিএসসি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এখানে শুধু মুসলিমদের নামাজের স্থান থাকলে অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও উপাসনার স্থান প্রয়োজন৷

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, টিএসসি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক জায়গা। এখানে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি চলবে না। আমাদের কাছে খবর আছে এখানে ধর্মীয় উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এই জায়গার পরিবর্তে তিনি সবাইকে কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়ার পরামর্শ দেন।

Namaj

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল দুপুরে টিএসসিতে নামাজের স্থান বরাদ্দের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী।কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়ার পর গত মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীদের সহযোগিতায় সেখানে নামাজের আলাদা জায়গা বানান শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপদেষ্টা ও পরিচালকসহ কর্মকর্তারা বাধা প্রদান করেন এবং ২২ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের সময় দেয়ার অনুরোধ করলে তারা তা মানেননি। প্রশাসনের বাঁধা অতিক্রম করে নামাজের স্থান তৈরি করে গতকাল সেখানে ছাত্রীরাও জোহরের সালাত আদায় করেন৷ আজ সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্থাপন করা পর্দা ও কার্পেট সরিয়ে দিয়ে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে নামাজের সে স্থানটিতে ৷ কে বা কারা এ কাজ করেছে সে সম্পর্কে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কিছুই বলতে পারেননি। 

একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর