শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ঢাকা

খাতুনগঞ্জে চিনির ‘মজুদ’, তবুও বাড়ছে দাম

এম আই খলিল
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৩, ০২:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

খাতুনগঞ্জে চিনির ‘মজুদ’, তবুও বাড়ছে দাম

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গোপনে চিনির মজুদ গড়ে তুলছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে ছাড়ছে না প্যাকেটজাত চিনি। ফলে রমজান ঘিরে অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে চিনির বাজার। আর এ নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ ক্রেতারা।

ক্রেতারা বলছেন, চিনির সরকার-নির্ধারিত মূল্য খোলা ১০৭ টাকা ও প্যাকেটজাত ১১২ টাকা হলেও শুধু খোলা চিনিই বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। একটু কম দামের আশায় ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরলেও কোথাও সরকার-নির্ধারিত দামে খোলা চিনি মিলছে না। চিনি না পেয়ে ক্রেতারা বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আর প্যাকেটজাত চিনি তো মিলছেই না।


বিজ্ঞাপন


নগরীর বহদ্দারহাটে চিনি কিনতে আসা একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, ২-৩ মাস ধরে চিনির দাম কয়েক দফা বাড়ানো হলো। কিন্তু সেই দামে দোকান থেকে চিনি কিনতে পারছি না। প্রতিবারই দোকানিরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে চিনি বিক্রি করছে। এবারও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দোকানে চিনি নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Sugarতিনি বলেন, সামনে রমজান মাস। রোজাদারদের ইফতার-সেহেরিতে শরবতসহ অনেক খাবারে চিনির প্রয়োজন। তখন চিনির চাহিদা বেড়ে যাবে অনেক গুণ। এখন থেকে দাম নিয়ে যদি এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে রোজায় চিনি ছাড়া শরবত খেতে হবে। না হয় শরবত খাওয়া বাদ দিতে হবে।

বাড়তি দামে চিনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বহদ্দারহাটের মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনে খুচরা বিক্রি করি। গত ২৬ জানুয়ারি চিনির দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে পাইকারিতে চিনির দাম বেড়ে গেছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, আগে পাইকারিতে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনি কিনতাম ৫ হাজার ২৫০ টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি খোলা চিনিতে পাইকারি দাম পড়ছে ১০৮-১১০ টাকা। অথচ প্রতি কেজি খোলা চিনির খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয় ১০৭ টাকা। আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত চিনি তো মিলছেই না।

তিনি অভিযোগ করেন, দাম বৃদ্ধির পর থেকে ব্যবসায়ীরা চিনি নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় মেতেছেন। রমজান মাস সামনে রেখে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় গোপনে চিনির বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের একাংশ। আরেকাংশ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করছেন চিনি। এতে বিপাকে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি চিনি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এম কে এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে চিনি বিক্রির বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। নতুনভাবে চিনির দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকে বাড়তি মুনাফার লোভে হয়তো কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বাড়তি দামে চিনি বিক্রি করছেন। তবে আমরা নির্ধারিত দামে খুচরা বাজারে চিনি সরবরাহ করে আসছি।

তিনি বলেন, বাজারে চিনির সঙ্কট রয়েছে। রমজান টার্গেট করে কোনো কোনো ব্যবসায়ী গোপনে চিনি মজুদ করছেন। অপরদিকে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে ছাড়ছে না প্যাকেটজাত চিনি। ফলে বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। সঙ্কট দূর করতে হলে চিনি মজুদকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে রিফাইনারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে সেদিকে নজর দিতে হবে। সরকার এই মুহূর্তে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোজায় চিনির দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাবে। বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

Sugarএসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, বাজারে চিনির সঙ্কট তৈরি করে সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চিনি বিক্রির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। শিগগিরই চিনিসহ সব ভোগ্যপণ্যের বাজারে অভিযান পরিচালনা করব।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশে বছরে ১৮-২০ লাখ টন পরিশোধিত চিনির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ টন চিনি দেশের রাষ্ট্রীয় চিনিকলগুলো উৎপাদন করে থাকে। বাকিটা আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। মূলত অপরিশোধিত চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশি মিলে পরিশোধন করে দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়।

প্রতিনিধি/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর