রমজানে নিত্যপণ্য সংগ্রহে কোনো ঘাটতি হবে না: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম
রমজানে নিত্যপণ্য সংগ্রহে কোনো ঘাটতি হবে না: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আসন্ন রমজান মাসে ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ ও ছোলাসহ ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহে কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক সাঈদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

মেজবাউল হক বলেন, আসন্ন রমজানে পাঁচ পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মতো এসব পণ্যে এলসি খোলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, রমজানে সাধারণত চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, পেঁয়াজ ও ছোলা এই পাঁচটি পণ্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এসব পণ্যের যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্য গত জানুয়ারি পর্যাপ্ত পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। এই এলসির পণ্য আগামী রমজানের আগেই বাজারে চলে আসবে। এই এলসির পরিমাণ গত বছরের রমজানের আগে খোলা এলসির চেয়ে বেশি।

মেজবাউল হক আরও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন। চলতি বছর জানুয়ারিতে পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৬২ মেট্টিক টন, যা গত বছরে ছিল ৩৬ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছিল মাত্র ১৬ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন। আসন্ন রোজার আগেই আমাদের এসব পণ্য চলে আসবে। এজন্য কোনো নীতিসহায়তার প্রয়োজন হলে সেটাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সংকট দেখা দিচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাউল হক বলেন, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও হচ্ছে প্রয়োজনমতো। গত নভেম্বর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার করে রফতানি হচ্ছে। আমাদের রেমিট্যান্স ও রফতানি মিলে ৪৪ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে আর এলসিতে আমদানির দায় পরিশোধ হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রফতানি মিসম্যাস আছে, যেটা ১৮০ দিনে আয় থেকে সমন্বয় হয়।

গত বছরের জানুয়ারিতে ৫ লাখ ১১ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন চিনির এলসি খোলা হয়েছিল। আর আসন্ন রমজান উপলক্ষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চিনির এলসি খোলা হয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন। ফলে গত বছরের চেয়ে চিনির এলসি বেশি খোলা হয়েছে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়াও এ বছর জানুয়ারিতে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন তেলের এলসি খোলা হয়েছে, যা গত ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খোলা হয়েছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন।

এইচআর/এমএইচএম