দেশে প্লাস্টিকের বাজার ৪০ হাজার কোটির, রফতানি ১.২ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

প্লাস্টিক খাতে বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ৩০ এর অধিক মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। এই সেক্টর সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে। রফতানি হয় প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের মতো।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিপিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি চার দিনব্যাপী ১৫তম ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ার-২০২৩ এর আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ আরও বলেন, প্লাস্টিক সেক্টরের সামগ্রিক চিত্র বিশ্ব বাজারে টেক্সটাইল এবং অ্যাপারেলস পণ্যের মতো বড় খাত হচ্ছে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক জাত পণ্যের। হিসাবে দেখা যায়, প্লাস্টিক পণ্যের সামগ্রিক গ্লোবাল মার্কেট সাইজের পরিমাণ ৫৭০ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যেখানে টেক্সটাইল এবং অ্যাপারেলস সেক্টরের অবস্থান হচ্ছে ৭৭২ বিলিয়ন ইএস ডলার। এর মধ্যে শুধু অ্যাপারেলস সেক্টরের অবদান ৪০৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার। কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, তৈরি পণ্য এবং তাদের আমদানির ক্ষেত্রে বিশ্বে প্লাস্টিক মার্কেট ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্লাস্টিক খাতের ভূমিকা বেড়েছে। দেশে প্রতিবছর প্লাস্টিকের নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বাড়ছে এর কর্ম পরিধি। এই খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। প্লাস্টিক পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন নতুন মডেল ও উন্নত মানসম্মত পণ্য বাজারে আসছে এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্লাস্টিক এখন অপরিহার্য্য পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

plastic

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্লাস্টিক খাতে বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ৩০ এর অধিক মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। এই সেক্টর সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে। রফতানি হয় প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্লাস্টিক সেক্টরে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। বর্তমান টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যেও এ সেক্টরের রফতানি প্রবৃদ্ধিসহ অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে।

সামিম আহমেদ জানান, বর্তমানে রফতানিতে প্লাস্টিক পণ্যের অবস্থান ১২তম। কিন্তু প্রচ্ছন্ন রফতানির (যার মধ্যে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ উল্লেখযোগ্য) হিসাব এর সাথে যুক্ত হলে রফতানিতে প্লাস্টিক পণ্যের অবস্থান হবে ষষ্ঠ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিগত ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট প্লাস্টিক রফতানি ছিল ৬৮.৭৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার। আর ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এসে রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৬৬.২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। (সূত্র : রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো)। 

২০২১-২০২২ অর্থবছরে রফতানি টার্গেট ছিল ১২৭.০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার আর অর্জিত হয়েছে ১৬৬.২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। অর্থ্যাৎ ৪৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্লাস্টিকের খেলনা, ওভেন ব্যাগ এবং ক্রোকারিজ আইটেমের ব্যাপক রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে উন্নতমানের খেলনা আইটেম তৈরি হচ্ছে। দেশে ইতোমধ্যে পিপিওভেন খাতে ৭০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। এই ওভেন খাত ইতোমধ্যে বিদেশে পণ্য রফতানি করছে। প্লাস্টিক খেলনা আইটেম বিভিন্ন দেশে রফতানি শুরু হয়েছে। এখাতের সম্ভাবনাও ব্যাপক। প্লাস্টিক পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশসহ সমগ্র ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন চীন, ভারত, নেপালসহ ১২৬টি দেশে রফতানি হয়ে আসছে। প্লাস্টিক খাতের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

এসময় বিপিজিএমইএ সাবেক সভাপতি মো. ইউসুফ আশরাফ, ফেরদৌস ওয়াহেদ ও শাহেদুল ইসলাম হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এইউ