ঘুটঘুটে অন্ধকারে দোকানে নেই ক্রেতা, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২৩ পিএম
ঘুটঘুটে অন্ধকারে দোকানে নেই ক্রেতা, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাটের কারণে ঢাকাসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয় আংশিক কাটলেও এখনও পুরোপুরি কাটেনি। রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজধানীর মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি। তবে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ আসার খবর পাওয়া গেছে।

সন্ধ্যায় মৌচাক এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে, জেনারেটরও কিছু সময় চালিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে তেল সংকটের কারণে। এতে পুরো এলাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করছে।

মৌচাকের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। যেসব দোকান খোলা রয়েছে সেখানেও অন্ধকার। দুই-একটি দোকানে মোমবাতি জ্বলছে, আবার অনেক দোকানে মোবাইলের লাইট একমাত্র ভরসা।

মৌচাক মার্কেটের কাপড়ের দোকানদার নূরে আলম বলেন, দুপুর দুইটার একটু পরে বিদ্যুৎ চলে গেছে, এখনও আসেনি। একটি পাওয়ার ব্যাংক কিনে এনেছি তা দিয়ে কোন রকম আলো জানিয়ে চলেছি। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্রেতাও নেই, সামান্য কিছু বিক্রি হয়েছে। জেনারেটর কিছু সময় চলছে, পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দোকানের তুলনায় জেনারেটর কম, তাই বেশি সময় সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হয় না।’

অন্ধকারে বসে রয়েছেন মৌচাকের লিলি প্লাজার পাঞ্জাবির দোকানদার মো. হুমায়ুন। তার সাথে কথা হয়ে এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, দুপুর দুইটার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলেও এখন পর্যন্ত আসেনি। মার্কেটে জেনারেটর নেই, এই কারণে বাইরে থেকে জেনারেটরের লাইন আনা হয়েছে, কিন্তু আজকে সেই লাইনও আসেনি। তাই অন্ধকারের মধ্যে বসে আছি।

p1

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিক্রি কমেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রেতা না এলে বিক্রি করবো কীভাবে। মূলত বিকেলের দিকেই ক্রেতা আসে সাধারণত, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্রেতা আসেনি বললেই চলে। বিদ্যুৎ নেই, এছাড়া প্রচুর গরম তাই মানুষ বের হচ্ছে না।

মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে বয়ে আছে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের কাপড়ের দোকানদার শহিদুল আলম। তার সাথে কথা হয়ে এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, দুপুরে বিদ্যুৎ চলে গেছে, জেনারেটরও নেই। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্রেতাও নেই। তাই দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে আছে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের প্রচেষ্টা ওয়াচের মো. সুলতান। তিনি বলেন, দুপুর দুইটা বিদ্যুৎ যখব চলে যায় তখন এই মার্কেটের সব দোকান খোলা ছিল। দোকান ১২০টার মতো, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এখন মাত্র ৩টা দোকান খোলা রয়েছে। একটু কাজ থাকার কারণে দোকান খোলা রেখেছি, না-হয় আমরাও চলে যেতাম।

এমই/জেবি