রেমিট্যান্সে ভাটা, সেপ্টেম্বরে এসেছে ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৮ পিএম
রেমিট্যান্সে ভাটা, সেপ্টেম্বরে এসেছে ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
ফাইল ছবি

নতুন অর্থবছর শুরুর পর থেকে বেশ চাঙা ছিল রেমিট্যান্স খাত। ডলার সংকটসহ নানা কারণে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল তখন আশার আলো দেখাচ্ছিল প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থ। কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে আগের সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছে। এই মাসে মাত্র ১৫৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

রোববার (২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ (প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের প্রবাসী আয়ের এই অংক গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৪৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১২৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ৪১ মার্কিন ডলার। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, করোনার সময়ে প্রবাসীরা বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে নিজেদের জমানো টাকা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অনেকে চাকরি হারিয়ে বা ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করেও দেশে টাকা পাঠিয়েছেন। ফলে সেসময় রেমিট্যান্স বেড়েছে। এখন করোনার পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। অনেক দেশের ভ্রমণ-যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য সচল হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় কমছে।

এছাড়া অনেকে দেশে এসে করোনার কারণে আটকা পড়েছেন। আবার অনেক প্রবাসী নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। এসব কারণে রেমিট্যান্স নেতিবাচক ধারায় রয়েছে।

এদিকে রফতানি আয়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। সদ্য সমাপ্ত এই মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ কম। এ বছরের সেপ্টেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

বিইউ/জেবি