অনুমোদন ছাড়া সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ দেওয়া যাবে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪৫ পিএম
অনুমোদন ছাড়া সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ দেওয়া যাবে না
ফাইল ছবি

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া, সুদ আয় মওকুফ ও খেলাপি হওয়া ঋণ অবলোপন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সীমাতিরিক্ত ঋণ দিচ্ছে। আবার আইন লঙ্ঘন করে ওই ঋণের সুদ মওকুফ ও ঋণ অবলোপন করছে। এতে করে ঋণের টাকা ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কারণে এমন নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ ও পুঁজি সরবরাহ করতে পারে। আবার নিজেও কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণ করতে পারে। মূলত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি অংশ আসে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের সুদ থেকে। ঋণ ও বিনিয়োগের কোন অংশটি পুঁজিবাজারের এক্সপোজারের মধ্যে পড়বে, তার সংজ্ঞা দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলারও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫টি। এরমধ্যে তালিকাভুক্ত ২৩টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সাবসিডিয়ারি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে। এছাড়া, ওই প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ কিংবা ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান লঙ্ঘন করছে। এর ফলে আর্থিক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও বিনিয়োগ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমতাবস্থায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের স্বার্থে এবং এই খাতে ঋণ শৃঙ্খলা আনতে এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাবসিডিয়ারি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ঋণ বা বিনিয়োগ প্রদান, সুদ বা মুনাফা মওকুফ ও বিতরণ করা ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

বিইউ/আইএইচ