প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছিল একটি কনটেইনার। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর প্রায় তিন মাস পর সেটি খুলে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়া এ চালানে সম্ভাব্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা ছিল।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে এ অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩-এর ব্লক-এ, শপ নম্বর 3C004A ঠিকানায় অবস্থিত China Mart নামের প্রতিষ্ঠানটি চালানটি আমদানি করে। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি ঘোষণায় পণ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল ‘প্রিন্টিং মেশিন’।
তবে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখার পর গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে চালানটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেন। এ সময় ঘোষিত প্রিন্টিং মেশিনের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী।
দেশে ২০ শলাকার নিম্নস্তরের একটি সিগারেট প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত।
এ ছাড়া চালানটিতে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রী আমদানির বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে চালানটিতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি শনাক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। পাশাপাশি বৈধভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এতে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এমআর/এফএ




