শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হাওয়া নেই এডিপির পালে!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম

শেয়ার করুন:

হাওয়া নেই এডিপির পালে!
  • প্রথম তিন মাসে বাস্তবায়ন মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ
  • গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাস্তবায়ন কমেছে ১.২০ শতাংশ
  • তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয়ের খাতা শূন্য
  • স্থানীয় সরকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়
  • এডিপির ধীরগতিতে রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ছে
  • আগাম সংশোধন হতে পারে চলতি অর্থবছরের এডিপি

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। অথচ এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি নেই। অর্থবছরের এক-চতুর্থাংশ সময় পার হলেও উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্র হতাশাজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাস্তবায়নের হার কমেছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট। শুধু গত বছরের তুলনায় নয়, আগের কয়েক অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের অগ্রগতির সঙ্গেও চলতি বছরের চিত্রের বড় ব্যবধান রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ধারাবাহিক এই পতন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বাড়েনি। ওই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই মাসে এই হার ছিল ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থবছরের তৃতীয় মাসেও আগের বছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে উন্নয়ন কার্যক্রম।

এডিপি বাস্তবায়নের এমন দুর্বল চিত্রের পেছনে প্রকল্প প্রস্তুতি, পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছেন বিশ্লেষকরা। আইএমইডির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ই শুরু করতে পারেনি। আবার গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশের নিচে। 

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৯৩৬ কোটি টাকা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৮৫ কোটি টাকা। তিনটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রথম তিন মাসে ব্যয়ের খাতা শূন্য। এর বাইরে পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছে। এগুলো হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। 

এডিপির অর্থায়নেও দুর্বলতা স্পষ্ট। সরকারি তহবিলের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যয়ের হার কম। প্রথম তিন মাসে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়নের হার ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ফলে বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।

ঋণচুক্তির আগে সাত শর্ত পূরণে নির্দেশ ইআরডির

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক ঋণনির্ভর ২৪৫টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসে এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। তখন বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ ছাড়া সাতটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকা ১ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি।

এদিকে, টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেও স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক নয়। প্রথম তিন মাসে বিভাগটি ব্যয় করেছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। তবে বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবায়নের হার ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বাস্তবায়নের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে সংসদবিষয়ক সচিবালয়। প্রথম তিন মাসে সংস্থাটির এডিপি বাস্তবায়নের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগের ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক ভালো অগ্রগতির বিপরীতে অধিকাংশ খাতের দুর্বল বাস্তবায়ন সামগ্রিক চিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, কোনোটিই প্রথম তিন মাসে বরাদ্দের ২ শতাংশ অর্থও ব্যয় করতে পারেনি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগটি ব্যয় করেছে মাত্র ১৯৭ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০২ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশেরও কম অর্থ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সুপারিশ করেছিল। বিএনপিও নির্বাচনী ইশতেহারে এই লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চলতি অর্থবছরে সরকার স্বাস্থ্য খাতে মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। প্রথমবারের মতো এই বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশ অতিক্রম করলেও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের গতি সেই তুলনায় বাড়েনি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৮টি প্রকল্পের জন্য ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা এবং ব্লক বরাদ্দ হিসেবে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পেয়েছে। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ ১৫টি প্রকল্পের জন্য পেয়েছে ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা এবং ব্লক বরাদ্দ হিসেবে ২ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় বরাদ্দের অর্থ কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

এডিপি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের দুর্বলতার সঙ্গে চলতি অর্থবছরের শুরুতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের প্রভাব। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান প্রকল্প পর্যালোচনায় কঠোরতা আরোপ করে। এ সময় অনেক প্রকল্প বাতিল, কিছু প্রকল্পের কার্যক্রম সীমিত এবং এক প্রকল্পের কাজ অন্য প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে অনেক প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রকল্পের পরিধি ও উদ্দেশ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কিছুটা কমলেও বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি।

প্রকল্পের পুনর্বিন্যাস বা রি-স্কোপিং এবং উদ্দেশ্য পরিবর্তন বা রি-পারপাসিংয়ের কারণে প্রকল্পের নকশা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এতে দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ, পরামর্শক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে দ্রুত অর্থ ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়। তখন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতির জন্য প্রকল্পের অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ই দায়ী। দ্রুত নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি না করা হলে বরাদ্দের বিপুল অর্থ, বিশেষ করে ব্লক বরাদ্দ, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অব্যবহৃত পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকটি ডিপিপি তৈরি করতে পেরেছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগের মতো কাজগুলো এখনো শেষ হয়নি। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, প্রকল্প প্রস্তুতির গতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় চাইলে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের যুক্ত করতে পারত। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও কারিগরি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ ছিল। এসব উদ্যোগের অভাবে প্রকল্পের প্রস্তুতি পর্যায়েই সময় নষ্ট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাস্তবায়নের সামগ্রিক অগ্রগতিতে।

তিনি আরও বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতির প্রভাব শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারি বিনিয়োগ কমে গেলে অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সংকুচিত হয়। সড়ক, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হয়। একইভাবে যোগাযোগ ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন বিলম্বিত হলে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানো এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংক থেকে ঋণ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় এসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত ভ্যাট ও কর আদায় হচ্ছে না। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে মন্দাভাব এবং রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও উদ্যম ও তৎপরতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এদিকে এডিপি বাস্তবায়নের দুরবস্থা কাটাতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ফ্ল্যাগশিপ ও মেগা প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। প্রকল্পের পুনর্বিন্যাস ও উদ্দেশ্য পরিবর্তনের অগ্রগতিও আলোচনায় আসবে।

এ ছাড়া নতুন ও ছোট প্রকল্পগুলো গুচ্ছ আকারে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। বাস্তবায়নের বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের এডিপি আগাম সংশোধন এবং সম্ভাব্য সংশোধিত এডিপির আকার নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে। অর্থাৎ, অর্থবছরের শুরুতেই বাস্তবায়নের দুর্বল চিত্রের কারণে উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, এডিপি বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, সে জন্য বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

এএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর