তরুণদের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বা ডেটা প্রাইভেসি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করতে আয়োজিত ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতার সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করেছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘থট পুলিশ’ দল। প্রথম ও দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে যথাক্রমে ‘এজেন্টওয়ান’ ও ‘সেড পিপল’।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় রবির করপোরেট কার্যালয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা মোট পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার পেয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে নতুন ও কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে তাদের উৎসাহিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
বিভিন্ন ধাপের মূল্যায়ন শেষে ২০টি দল ‘প্রাইভেসি ডিফেন্ডার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে সেরা ১০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। দলগুলো হলো সিভ ভোডার্স, থট পুলিশ, এজেন্টওয়ান, সেড পিপল, সিইউ-ইটি-ই এনক্রিপটেড ওয়েভস, এইজাকমি, টিম সাদ্দু, টিম ব্ল্যাক কফি, দ্য সাইফার গার্লস ও প্রজেক্ট রেড স্কাই।
চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগীরা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, গ্রাহকের আস্থা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, তরুণেরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না, বরং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন সমাধান তৈরি করবে, এমনটাই প্রত্যাশা। তরুণদের এই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে। ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স ২০২৬’ তরুণদের সেই সক্ষমতা বিকাশের একটি কার্যকর উদ্যোগ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন এবং কার্যকর সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করছে। সরকার, শিল্পখাত ও তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল আস্থা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাইভেসি ফার্স্ট’ উদ্যোগ এবং ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তথ্য সুরক্ষায় সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিবেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
এমআর/এএস




