মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মায়ের দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় শুরু, এখন মাসে আয় লাখ টাকা

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মায়ের দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় শুরু, এখন মাসে আয় লাখ টাকা

বাবা হারানোর পর জীবিকার সন্ধানে চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরেছেন নারায়ণগঞ্জের মাইনুল ইসলাম খান। নয় হাজার টাকা বেতনের একটি চাকরি জুটেছিল। কিন্তু অসুস্থ মাকে রাতে একা রেখে কাজে যেতে হবে বলে ফিরিয়ে দেন। পরে মায়ের জোগাড় করে দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় কম্পিউটার কিনে শুরু করেন প্রযুক্তিনির্ভর পেশার লড়াই।

সাফল্যের ছোঁয়া পেয়েছেন সেই মাইনুল। তিনি এখন মিডিয়া বায়ার ও গ্রোথ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। তার দাবি, সব মিলিয়ে বর্তমানে মাসে আয় করছেন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মার্কিন ডলার।

মাইনুলের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ২০১২ সালে। তখন সাইবার নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার ব্যক্তিদের অনানুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা করতেন তিনি। তবে নিয়মিত পেশা হিসেবে নেন বাবার মৃত্যুর পর।

২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে মাইনুলের কাঁধে। চাকরির চেষ্টা করেও অভিজ্ঞতার অভাবে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে পোশাক কারখানায় ৯ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পেলেও অসুস্থ মাকে একা রেখে কাজে যেতে রাজি হননি।

তখন আইটি ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। মায়ের দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় প্রথমে একটি ল্যাপটপ কিনলেও সেটি এক মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। পরে মায়ের সহযোগিতায় পুরোনো ডেস্কটপ কিনে আবার শুরু করেন কাজ।

ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসইও, গুগল অ্যাডস ও মেটা অ্যাডসের কাজ শেখেন। ২০২৩ সালের আগস্টে একটি জাতীয় দৈনিকে ৩০ হাজার টাকা বেতনে ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড কনটেন্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। পরে সহপাঠীকে নিয়ে মার্কেটিং এজেন্সি গড়লেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ এবং ক্লায়েন্ট হারানোর কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে হয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বহুজাতিক প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া বায়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পান তিনি। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করেন। পাশাপাশি গ্রোথ স্ট্র্যাটেজি ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও করছেন।

কাজের পরিধি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারও শিখেছেন মাইনুল। তার মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তার উপলব্ধি, ‘এআই আমার শত্রু নয়, এআই এখন আমার পরম বন্ধু।’

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর