দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশের সঙ্গে চুক্তি করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এমন সুপারিশ আসে। কমিটির সভাপতি জনাব আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহ. পরিচালক (গণসংযোগ) মৌমিতা নাসরাত রুমার পাঠানো এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসমস্ত শূন্য পদ রয়েছে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে তা দ্রুত সময়ে পূরণের সুপারিশ করে।
কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিগত আট মাসে সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং কেনাকাটার উপর প্রতিবেদন প্রদানের সুপারিশ করে। বৈঠকে জানানো হয় বিদেশের সঙ্গে কোনও চুক্তি হলে দেশের স্বার্থকে সবোর্চ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, কমিটি সিভিল এভিয়েশন, বিমান ও পর্যটনের কেনাকাটা, বদলি, নিয়োগ এবং বিমান বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির লক্ষ্যে একজন আহ্বায়ক ও চারজন সদস্য করে পাঁচসদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রদান করে।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সকল সংস্থা রয়েছে সেগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিপূরক হয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলকে সঠিক জায়গায় পদায়নের সুপারিশ প্রদান করেন। কমিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত সভা আয়োজন করার সুপারিশ প্রদান করে।
এদিকে বৈঠক সূত্র জানায়, আজ বৈঠকে বিমান কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা জানতে চেয়ে কমিটির সদস্য জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান বলেছেন,৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করা হয়েছে কি না?
সূত্র জানান, এ প্রশ্নের জাবাবে বৈঠকে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সফট লোনের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত আয় দিয়েই এর ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে দুই ধাপে। গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। ফলে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলেও বৈঠকে মন্ত্রী জানিয়েছেন বলেও সূত্র উল্লেখ করেন।
সূত্র আরও জানান, বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।
বৈঠকে কমিটি সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ, মিজ মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মিজ শওকত আরা আক্তার, মো. কামরুল হাসান ও মো. আবু তালিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা সমূহের ঊর্ধ্বতন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএইচ/এআরএম




