স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটনশিল্প প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুল ইসলাম।
এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি সহযোগিতা, কার্যকর উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
কামরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের সময়ে নানা সাফল্য থাকলেও এভিয়েশন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রায় ২৯ বছর ধরে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যটন করপোরেশন, পর্যটন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে শিল্পসংশ্লিষ্টদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না।
এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে নীতিনির্ধারক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটনশিল্পের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ উল্লেখ করে ইউএস-বাংলার এ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন।
এ দেশের বাজারকে কেন্দ্র করে ৩৫টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ব্যবসা পরিচালনা করছে। তা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপিতে এভিয়েশন ও পর্যটনশিল্পের অবদান কম। যথাযথ পরিকল্পনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব।
এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারিত হলে দেশের যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু না হওয়ায় যাত্রীসেবায় চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন কামরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বছরে ৮০ লাখ যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে এ বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী চলাচল করছেন। এতে লাগেজ বেল্ট ও ট্রলিসহ বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা গেলে এ পরিস্থিতি থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
তবে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত হবে না বলে মনে করেন তিনি। কামরুল ইসলামের ভাষ্য, টার্মিনালটির বছরে দুই কোটি যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা ও এভিয়েশন খাতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য নীতিনির্ধারকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। এ ছাড়া পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নেপাল, ফিলিপাইন ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেন।
এম/এআরএম




