বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম এজিএম: লভ্যাংশ পেয়ে খুশি বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম এজিএম: লভ্যাংশ পেয়ে খুশি বিনিয়োগকারীরা

বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প উদ্যোগের জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে এস এম শামছুল আলম বলেন, সুশাসনের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো আর্থিক ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ওয়ালটন। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আর্থিক ফল অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যোগ দিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভাকে সফল করে তোলায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, স্টেকহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে উদ্যোগ

সভায় ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক সূচকের উন্নতি ও ব্যবসায়িক অগ্রগতির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছর বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য পরিবর্তনশীল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল, উদ্ভাবন এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণে ওয়ালটন ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ওয়ালটনের বর্তমান সাফল্যকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক পথচলার শুরু থেকেই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আমদানিনির্ভরতা কমাতে নিজস্ব ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশে প্রথম বৃহৎ পরিসরে উন্নতমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, এসব ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিকেল, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া ফুয়েলচালিত জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে বাসাবাড়িতে স্টোরেজ পাওয়ার এবং শিল্পকারখানায় এনার্জি স্টোরেজ হিসেবেও এগুলো ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি কৌশলগত উদ্যোগ। এটি ভবিষ্যতে গ্রিন এনার্জি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগের সুফলের অংশীদার হবেন বিনিয়োগকারীরাও।

সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা

উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিও ওয়ালটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ওয়ালটন কারখানায় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার বড় অংশ পূরণ হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ওয়ালটনের অগ্রগতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

৬৪ দেশে রপ্তানি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ

আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের অগ্রগতি তুলে ধরে এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে ওয়ালটন। ইতোমধ্যে সিই, ইউএল, এনওএম, বিআইএস ও টিইউভির মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জন করে বিশ্বের ৬৪টি দেশে পণ্য রপ্তানি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও বলেন, ওয়ালটনের রপ্তানি তালিকায় লিফট ও ক্যাবলের মতো নতুন পণ্য যুক্ত হচ্ছে। গ্রিন টেকনোলজিনির্ভর উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটন পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সভায় যেসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন

এজিএমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে পরিচালকদের প্রতিবেদন, পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ, কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকের পুনর্নিয়োগ অনুমোদন করা হয়।

এ ছাড়া চার্টার্ড সেক্রেটারি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টের নিরীক্ষক পুনর্নিয়োগ, স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে জোহরা বিবির নিয়োগ এবং ওয়ালটন হাই-টেকের সংশ্লিষ্ট পক্ষ ওয়ালটন প্লাজার সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টার্নওভারের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেকের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, তাহমিনা আফরোজ তান্না, রাইসা সিগমা হিমা, সাবিহা জারিন অরনা, নিশাত তাসনিম শুচি ও সাদমান সাকিব দিপ্র।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর মো. সাদিকুল ইসলাম, পিএইচডি, এফসিএমএ, আখতার মতিন চৌধুরী, এফসিএ, এফসিএস ও জোহরা বিবি; অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) ও চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম, এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ); এএমডি ও হেড অব ইন্টারন্যাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স আবু নাফিস; কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস।

এজেড/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর