বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও শিল্পে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও শিল্পে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের খ্যাতনামা ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। এ উদ্যোগের আওতায় টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তাঁর দেশ আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রেখেছে। পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে আনারস ও চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ এসব পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির হাইকমিশনার। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ সময় চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার। এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর