বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সরকারের হুঁশিয়ারির পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সরকারের হুঁশিয়ারির পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
সরকারের হুঁশিয়ারির পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। ছবি- সংগৃহীত

সরকারের তরফ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারির পর ঘোষিত দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবসায়ীরা।

একই সঙ্গে এলপিজির দাম নতুন করে নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনের পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যবসায়ীরা আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) দেশজুড়ে সব এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তবে আজ সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি কিংবা দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামেও স্থিতিশীলতা নেই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ অবস্থায় এলপিজির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বন্ধ রেখে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার সুযোগ নেই। ধর্মঘটের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। ’

তাই ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের এই অবস্থান ও আলোচনার পর এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।

ফলে আগামী দুই দিন বাজারে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর