শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর
ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

ব্যাপক আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে আগামী ৫ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আর্থিক খাতে অর্থপাচার ও অনিয়মের ব্যাপকতা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে সরকার ২ কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত।

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, এ অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়। লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়, বরং লুটপাট।

তিনি বলেন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতিমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করা এবং ক্যাম্পাসে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউআইইউতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা আরও সহজ ও সহজলভ্য হলেই ডিজিটাল রূপান্তর অর্থবহ হয়ে ওঠে। ইউআইইউতে বাংলা কিউআর চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিশন বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ইউআইইউর সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তারা আনন্দিত।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক উদ্ভাবন ও ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন। 

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর উদ্যোগ এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আউটলেটেও এ উদ্যোগের আওতায় ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ওয়ান ব্যাংক ও ইউআইইউর এ অংশীদারত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

টিএই/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর