শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ছুটির দিনে বাজারে ভিড়; মাছ-মাংসের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ছুটির দিনে বাজারে ভিড়; মাছ-মাংসের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা 
ছবি: ঢাকা মেইল

দেশে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় করছেন। সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগে অনেকে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে বের হন। সবজি, মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও মাছ-মাংসের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই তাদের। পছন্দের খাবার কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে বাজারে ভিড় থাকলেও অনেক ক্রেতাকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
‎
‎শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
‎
‎সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় মাছ ও মাংসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। তবে দাম শুনে অনেকেই দরদাম করছেন। কেউ পরিমাণ কমিয়ে পছন্দের মাছ কিনছেন, আবার কেউ মাংসের পরিবর্তে বিকল্প কিছু খুঁজছেন। অধিকাংশ ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের বাজারে সবকিছু দাম বাড়লে আয় বাড়েনি। বাড়তি ব্যয়ের চাপে অনেকে পরিমাণ কমিয়ে বাজার করতে হচ্ছে। যার ফলে, ঠিকমতো পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
‎
‎এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ১১০০-১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এছাড়াও, দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা, লাল কক মুরগি ৩৫০-৪৫০ টাকা, পাকিস্তানি জাতের মুরগি ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের পাশাপাশি, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।
‎
‎মাংস কিনতে গিয়ে বাড়তি হিসাব

‎মাংসের বাজারে দামের চাপে অনেকে এখন মাসে একবার মাংস কিনছেন। বিশেষ করে বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজন অনুযায়ী এসব মাংস কিনতে পারছে না। কেউ আধা কেজি, কেউ এক কেজি মাংস কিনে সারা সপ্তাহের খাবারের পরিকল্পনা করছেন। আবার অনেকেই তুলনামূলক কম দামের ব্রয়লায় মুরগির মাংসের দিকে ঝুঁকছেন।

‎জহিরুল ইসলাম নামে বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের পছন্দের খাবার রান্না করার ইচ্ছা থাকলেও বাজারের খরচ সেই ইচ্ছায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পর মাছ-মাংসের জন্য আলাদা করে বেশি টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যপ কেউ গরুর মাংস পছন্দ করে, কেউ খাসির মাংস আবার কেউ ব্রয়লার মুরগি ছাড়া চলে না। এমন ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরে পরিবারের চাহিদা মিটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার ফলে, স্বপ্ল বেতনে চাকরি করি ঠিকমতো পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছিনা।
‎
‎আরেক ক্রেতা হুমায়ন আহমদ বলেন, সপ্তাহে শুক্রবার ছুটির দিনে পুরো সপ্তাহের কাঁচা বাজার করে রাখি। মাঝেমধ্যে সপ্তাহের মাঝখানে টুকটাক কিছু লাগলে তা কিনে নেই। তবে, বর্তমান সময়ে এসে বাজারে দরদামের যে হিসাব তা কোনভানেই খরচের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। একটা ঠিকঠাক কিনতে গিয়ে অন্যগুলো কেনা হয়না। পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে মাছ-মাংস কিনতে গিয়ে পকেটের টাকা শেষ হয়ে যায়। সবকিছুর বাড়তি দাম হলেও আমাদের আয় কোনভাবেই বাড়েনি। বরং আয় দিয়ে বাসা ভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, খাবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আমরা চাপে পড়ে যাচ্ছি। আমরা চাই অন্তত খাবারের চাহিদা মেটানের জন্য হলেও সরকার বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

Screenshot_2026-10-09_120729
‎
‎এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে। তবে বাজারভেদে পণ্য ও মান অনুযায়ী দামে পার্থক্য রয়েছে। পাইকারী বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খুচরা পর্যায়ে দাম কমে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন।
‎
‎মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা সারারাত জেগে কারওয়ান বাজার গিয়ে বসে থাকি। ভোরে পাইকারী বাজার থেকে পণ্য কিনে সকালের আলো হওয়ার আগেই খুচরা বাজারে মালামাল নিয়ে আসি। খুচরা বাজারে লম্বা সিরিয়াল, বেশি দরে পণ্য কিনতে হয়। যার ফলে, ক্রেতাদের ওপর চাপ পড়ে। ক্রেতারা বাজারে এসে নানান কথা বলে। কিন্তু আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা বেশি দরে পাইকারি বাজার থেকে কিনে লোকসান দিয়ে কম দামে তো আর বিক্রি করবো না। সরকার যদি চায়, পাইকারি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সবকিছু দর কমিয়ে আনবে। তাহলে নিত্যপণ্যের দর অনেকটা কমে আসবে।
‎
‎একই রকম দাবি করেন, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সরকার পাইকারী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পণ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে সকল জায়গায় নজরদারি করলে পণ্যে দাম অনেক কমে যাবে। যা মানুষের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।
‎
‎একেএস/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর