মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

প্রকল্প পরামর্শকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রকল্প পরামর্শকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা পরামর্শকদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও বিস্তারিত নকশার মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করতে এ বিষয়ে নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডির ভিত্তিতে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়। সেখানে বিস্তারিত নকশা থাকে না। পরে বিস্তারিত নকশা তৈরির সময় অনেক পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে এর প্রভাব প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময়ের ওপরও পড়ে। মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্থের মতো বড় প্রকল্পে ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং বিস্তারিত নকশার মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। এসব বিষয় বিশেষজ্ঞদের উচ্চপর্যায়ের কমিটি পর্যালোচনা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে স্টেশনগুলোর যে গভীরতা ধরা হয়েছিল, বিস্তারিত নকশা তৈরির সময় তার চেয়ে প্রায় তিন গুণ গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা গেছে। দেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এমন পরিবর্তন হয়েছে। শুধু বড় প্রকল্প নয়, অন্যান্য প্রকল্পেও ফিজিবিলিটি স্টাডির পর পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা যায়।

এ কারণে ফিজিবিলিটি স্টাডিকে আরও কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু রুটিন কাজ বা বাধ্যবাধকতা পূরণের বিষয় না হয়। প্রকল্পের ডিপিপি ও ব্যয় নির্ধারণে ফিজিবিলিটি স্টাডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও বিস্তারিত নকশার মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, তা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করে বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়াতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে, একনেক সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া অর্থ, সমাজকল্যাণ, ভূমি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে শুরু হয়ে এখনো চলমান প্রকল্প যেমন রয়েছে, তেমনি ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হচ্ছে। যথাযথভাবে তদারকি করে এসব ব্যাখ্যা একনেকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। অযৌক্তিকভাবে সময় বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডলারের মূল্য পরিবর্তন, প্রকল্পের পরিধি, বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় পার হওয়া এবং নতুন অঙ্গ সংযোজনসহ বিভিন্ন কারণে ব্যয় বাড়ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের বড় অংশ ভূগর্ভস্থ হওয়ায় নির্মাণকাজের পর ওপরের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় কোনো ধরনের প্রভাব তৈরি হলে তা মোকাবিলার ব্যবস্থাও প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। আরও তিন থেকে চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান মেয়াদে নেওয়া প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ করা বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর