বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রাজধানীতে ৩ লাখ ১৬ হাজার বিদেশি সিগারেট জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

শেয়ার করুন:

রাজধানীতে ৩ লাখ ১৬ হাজার বিদেশি সিগারেট জব্দ
৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের পিসি কালচার হাউজিং ও জয়েন্ট কোয়াটার এলাকায় পৃথক দুটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব সিগারেট জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী ভ্যাট গোয়েন্দা দলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বেলা ১১টার দিকে দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান শুরু করা হয়। এ সময় গোডাউন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহযোগিতায় গোপন গোডাউন শনাক্ত করা হয়।

গোডাউনের মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে ভবন মালিকের সহযোগিতায় বাইরে থেকে মিস্ত্রি এনে গোডাউনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। সেখানে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়।

একটি গোডাউন থেকে Patron Nano-এর ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, Mond Strawberry-এর ১০ হাজার, Mond Silver-এর ১৬ হাজার ৬০০ এবং Oris Nano-এর ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা উদ্ধার করা হয়। অপর গোডাউন থেকে Orbit, Mond, Patron ও Oris ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে জব্দ করা সিগারেটের পরিমাণ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা। এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা। এতে মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

অভিযানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি গোডাউনের ঠিকানা আলাদা হলেও প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। তিনি ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলে গোডাউন দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে কী ধরনের পণ্যের ব্যবসা করা হয়, তা ভবন মালিক জানতেন না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দা দল জানতে পারে, দিনের অধিকাংশ সময় গোডাউন দুটি বন্ধ থাকত। রাতের বেলায় সেখানে মালামাল আনা হতো এবং পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পার্সেল পাঠানো হতো। গোডাউনের দারোয়ানও ভেতরে কী ধরনের পণ্য রাখা হয়, তা জানতেন না বলে জানান।

এনবিআর জানিয়েছে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় চোরাচালান চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চলছে। এই চক্র ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহ করছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

জব্দ করা সিগারেটগুলো অবৈধ হওয়ায় নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। পূর্বানুমতি ও বিধি অনুযায়ী প্রক্রিয়া ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানি করা যায় না। তাই পরবর্তী সময়ে বিধি মোতাবেক এসব সিগারেট ধ্বংস করা হবে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এমআর/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর