মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রোকারেজ হাউজ-মার্চেন্ট ব্যাংকে মানিলন্ডারিং ইউনিট গঠনের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রোকারেজ হাউজ-মার্চেন্ট ব্যাংকে মানিলন্ডারিং ইউনিট গঠনের নির্দেশ
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ঠেকাতে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা পরিপালন ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আওতায় ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিএফআইইউর জারি করা এক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে চিফ অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (ক্যামলকো) নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট (সিসিইউ) গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শাখা পর্যায়ে শাখা অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (বিএএমএলকো) নিয়োগ দিতে হবে। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের হিসাব খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদসহ নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি পদ্ধতিও ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন এবং বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ সত্তার সঙ্গে কোনো গ্রাহকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে নিয়মিত স্ক্রিনিং করতে হবে।

গ্রাহকদের লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে বিএফআইইউ। কোনো লেনদেন জটিল, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা আপাতদৃষ্টিতে অবৈধ মনে হলে তা শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাকে (বিএএমএলকো) লিখিতভাবে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট বিষয়টি যাচাই করবে। এরপর গো-এএমএল ওয়েবের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিএফআইইউকে রিপোর্ট করতে হবে। এ ধরনের রিপোর্টের ক্ষেত্রে লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা কঠোরভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাইয়ে নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে স্বাধীন যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত পেশাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহকের হিসাব বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত গ্রাহক ও লেনদেন-সংক্রান্ত সব তথ্য ও দলিল সংরক্ষণ করতে হবে বলেও সার্কুলারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টিএই/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর