রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষ সরে গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কর্মসূচি শেষ করে তারা দিলকুশা এলাকা থেকে চলে যায়। তবে দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে উভয় পক্ষ।
দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাংকপাড়ায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয় সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত রাখা, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানান। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ বলেন, যেকোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন স্থানে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেখানে মানুষের চলাচল ও জনদুর্ভোগ কম হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের কর্মসূচি চলছে। চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে ব্যাংকের ভেতরে গেছে। তারা স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে এলে রোববারের জমায়েত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিসি হারুন আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এক জায়গায় জমায়েত হলে তাদের সরিয়ে দিতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি হতাহতের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে পুলিশ এ ধরনের বড় জমায়েত নিরুৎসাহিত করছে।
ইসলামী ব্যাংককেন্দ্রিক এই আন্দোলনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কোনো রাজনৈতিক ঘটনা কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচির যোগসূত্র রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ব্যাংকপাড়ায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টিএই/জেবি




