শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল, উৎস বৈচিত্র্যকরণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি নিরাপত্তায় নির্ভরযোগ্যতা ও বৈচিত্র্যকরণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ
জাপানের টোকিওতে সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপন ও সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ বিঘ্ন ও বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্ভরযোগ্যতা, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে দেশে জ্বালানির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এলএনজি আমদানি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর মাধ্যমে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন (এমটিপিএ)।

এই চাহিদা পূরণে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে আরও ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-৩০ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১-৪০ মেয়াদে ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এলএনজি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যকরণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র (আরএফকিউ) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত রয়েছে। এতে মুনাফা স্থানান্তরের সুযোগ, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতায় বিশ্বাস করে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর