অনলাইন ব্যবসার আড়ালে প্রায় ২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা। রাজধানীর বনানী ও মিরপুরে আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করার পর প্রাথমিক পর্যালোচনায় এ রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এনবিআর জানায়, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতাও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের গবেষণা দল মাঠপর্যায়ে জরিপ চালায়। এর ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। আলফা ই-শপ এর মধ্যে একটি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের দুটি নিবারক দল একযোগে আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করা হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আলফা ই-শপ বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ফ্যান, শোভাময় ফ্যান, দামি আলোকসজ্জার সামগ্রী, ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নকশা দল বিভিন্ন অফিস ও বাসার অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজও করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতা আকর্ষণে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও পণ্য বিক্রি করা হয়।
অভিযানের পর জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে এনবিআর দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট বিক্রি, শোরুম বিক্রি, বনানী অনলাইন শোরুম বিক্রি, অনলাইন ফোন কল বিক্রি, হোয়াটসঅ্যাপ কল বিক্রি, অনলাইন পরিবেশক বিক্রি এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আসছিল। পাশাপাশি বনানী-১১ ও মিরপুর-১২-এর দুটি শোরুমের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করা হয়।
নথিপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনায় প্রায় ২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মৌখিক সম্মতিও দেওয়া হয়েছে।
তবে জব্দ করা নথিপত্রের বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এনবিআর বলছে, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এমআর/এআর




