বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‍উন্মুক্ত বাণিজ্যে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‍উন্মুক্ত বাণিজ্যে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রফতানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং টেকসই অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সক্ষমতা ধরে রাখতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনের নীতিনির্ধারণী সংলাপের ‘বৈচিত্র্যময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সহনশীল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো গঠন’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা শুধু সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মসংস্থান ও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।’

Belt_and_Road_Initiative_Summit_2
১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলন

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে রফতানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানানো কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিআরআই কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, পণ্য পরিবহন অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে।’

Belt_and_Road_Initiative_Summit_1
১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলন

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ডিজিটাল বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত ই-বাণিজ্য ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোকে পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘নিম্ন-কার্বন উৎপাদন, টেকসই পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং সবুজ অবকাঠামোই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি।’

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’

Belt_and_Road_Initiative_Summit
১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলন

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে ইনভেস্ট বাংলাদেশ দেশটিতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

হংকংকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনের মূল ভূখণ্ড ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে হংকংয়ের অবস্থানকে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতা নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।’

এমআর/এএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর