শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। 

তিনি বলেছেন, বাজারকে আরও গভীর, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ন্যায্য করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ভালো ও বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব রাসেল বক্তব্য দেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি কনফিডেন্ট যে আগামী এক বছরে এই স্টক মার্কেটটা আগের মতো আপনারা দেখবেন না। এই স্টক মার্কেটটা আরও অনেক ডিপার হবে, অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আসবে। তখন আমাদের যে বর্তমান দুর্বলতাটা আছে, ইনশাআল্লাহ আমি আশা করছি তখন আরও কমে আসবে।’

পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন নিয়ে স্বল্পমেয়াদি চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বাজারে জোয়ার-ভাটা থাকবে, এটিই স্বাভাবিক উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য সূচক বাড়ানো বা কমানো নয়। বরং একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এর অন্যতম কারণ ছিল মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান। ফ্লোর প্রাইসের কারণে ওই সূচকে বাংলাদেশ স্থগিত হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাজারে কৃত্রিম ব্যবস্থা না রেখে স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাসুদ খান জানান, পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী মাস থেকে বাংলাদেশের জন্য মরগান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইনডেক্স আবার চালু হতে পারে।

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে হাতে গোনা কিছু ভালো কোম্পানি রয়েছে। অনেক কোম্পানির আয়ের ওঠানামা বেশি হওয়ায় তাদের আর্থিক ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। এ কারণে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ভালো কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালা নতুন করে সাজানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আইপিও ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুঁজিবাজারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে ‘হাইব্রিড সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানি একদিকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, অন্যদিকে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে মনে করছে বিএসইসি।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর