বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে সয়াবিনের দাম সমন্বয়: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে সয়াবিনের দাম সমন্বয়: মন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় হিসাব করেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য উঠানামা করলে স্থানীয় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, ‘আমদানিকৃত তেলের মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি (ফর্মুলা) রয়েছে। ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) মূল্যের সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও পরিবহনকালীন অপচয় (ওয়েস্টেজ) যুক্ত করে চূড়ান্ত দর নির্ধারিত হয়। সাধারণ মানুষ বা গণমাধ্যমকর্মীরাও আন্তর্জাতিক ইনডেক্স দেখে সহজেই এই হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।’

ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ভোজ্যতেলের ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকরা টানা লোকসানে পড়লে বাজার সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। তাই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উদ্যোক্তারা যাতে লোকসানের মুখে ব্যবসা গুটিয়ে না নেন, সেজন্য একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।’

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও আমদানির সরবরাহ পাইপলাইন সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।’

চিনির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় রিফাইনারি মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে। ইউটিলিটি সংক্রান্ত বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে তাদের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিগত ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাছাড়া পে-স্কেল একবারে নয়, আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।’

এছাড়া সুগন্ধি চাল রপ্তানি বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে। তবে যারা নির্ধারিত সময়ে চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল বা কমানো হবে।

এমআর/এএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর