মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

City Bank CityTouch

পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৯ পয়সা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এডিবির অর্থায়নে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে মানুষের জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

‘টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবারসহ অন্তত ৮৮ হাজার অতিরিক্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ক্ষমতাসম্পন্ন ছয়টি নতুন ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। নির্মাণ করা হবে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন। পাশাপাশি ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি সাবস্টেশন, একটি সুইচিং স্টেশন এবং একটি আঞ্চলিক মেরামত কারখানা সংস্কার করা হবে।

এডিবি জানিয়েছে, এসব উন্নয়নের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সিস্টেম লস ও পরিচালন ব্যয় কমবে এবং গ্রিডের কার্যক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিবছর অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে। দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার সক্ষমতাও বাড়বে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফং ঝাং বলেন, কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহনশীলতা তৈরিতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জীবিকার সুযোগ বাড়ানো, নারীদের অংশগ্রহণ ত্বরান্বিত করা এবং কম কার্বন নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে জাতীয় বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ থাকলেও পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিড সংযোগের হার তুলনামূলকভাবে কম। খাগড়াছড়িতে গ্রিড সংযোগের হার ৪৯ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ।

প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিড সুবিধার হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি সৌর ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ারসহ ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পের আওতায় কমপক্ষে ৩০টি সৌরশক্তিচালিত সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন এসব ব্যবস্থা পরিচালনা করবে এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সরবরাহ সচল রাখতে সৌর ব্যাকআপ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতেও প্রকল্পে বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে। অন্তত এক হাজার মানুষকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০০ জনের বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা পরিচালনায় ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়া হবে। জ্বালানি খাতের ক্যারিয়ার এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে ৩০০ শিক্ষার্থীকে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হবে।

গ্রাহকসেবা উন্নত করতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং সুবিধাসহ তিনটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মীদের গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ সহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এডিবির ঋণের পাশাপাশি জাপান সরকারের ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিডিবি ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেবে।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর