শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জনতা ব্যাংকে পদোন্নতি জট, দ্রুত সমাধানের দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

জনতা ব্যাংকে পদোন্নতি জট, দ্রুত সমাধানের দাবি

জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত নতুন অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন, দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসন এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটি এ দাবি জানান।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, একটি ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো, পদ সৃষ্টি, জনবল ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত পদোন্নতির অন্যতম ভিত্তি হলো অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম। অথচ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলেও জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের এক হাজার ৯২৬ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২১ নভেম্বর ২০২২ সালের নির্দেশনায় অর্গানোগ্রামের বাইরে সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ নেই বলে জানানো হয়। তবুও নিষেধাজ্ঞার পরও ২০২৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রেডে মোট সাত হাজার ২১৫ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে বিভিন্ন গ্রেডে পদোন্নতি পান ৫৭৯ জন কর্মকর্তা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি নিয়ে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নজরে এলে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নির্দেশনা দেয়, সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির সমন্বয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি স্থগিত থাকবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুপারনিউমেরারি পদ সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৩ মার্চ বিভিন্ন গ্রেডে ৮৮৫ জন সুপারনিউমেরারি কর্মকর্তাকে নিয়মিত করা হয়।

ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপারনিউমেরারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত করা হলেও জনতা ব্যাংকে অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের আগেই সুপারনিউমেরারি পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নিয়মিত করা হয়েছে। এতে নিয়মিত পদোন্নতির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

7

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২০২৫ সালের ৭ জুলাইয়ের নির্দেশনার আলোকে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংশোধিত অর্গানোগ্রামের প্রস্তাব পাঠায়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুমোদিত হয়েছে।

অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত নতুন অর্গানোগ্রামের প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হলেও এখনো তা অনুমোদন পায়নি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। অন্য তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের কাট-অফ ডেট অনুযায়ী পদোন্নতি সম্পন্ন করেছে এবং ২০২৫ সালের পদোন্নতির কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছে। অথচ জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা এখনো ২০২৪ সালের নিয়মিত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

তাদের দাবি, ২০২৪ সালে এজিএম ও ডিজিএম পদ ছাড়া অন্য কোনো পদে পদোন্নতি না হওয়ায় পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের কাট-অফ ডেটভিত্তিক পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা এবং প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রস্তাবিত নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে অবশিষ্ট সুপারনিউমেরারি পদগুলোও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত করা হবে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এটি বাস্তবায়িত হলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হলে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি কার্যক্রমও বন্ধ থাকার শঙ্কা রয়েছে।

ঐক্য পরিষদের মতে, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে জনতা ব্যাংকের মোট অনুমোদিত জনবল ১৮ হাজার ৩৭ জন থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৮১৭ জনে উন্নীত হবে। এতে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট নিরসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আসবে, গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং খেলাপি ঋণ আদায় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার হবে।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন; অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ২০১৯ ও ২০২৪ সালের সুপারনিউমেরারি কর্মকর্তা বা পদ নিয়মিতকরণ বাতিল অথবা স্থগিত রাখা; অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের কাট-অফ ডেট অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে বিদ্যমান বৈষম্য ও দীর্ঘদিনের জট দ্রুত নিরসন করা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ জানায়, তাদের দাবি শুধু পদোন্নতিসংক্রান্ত নয়; ব্যাংকের দক্ষতা, সুশাসন, কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকসেবার স্বার্থেও অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদন জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রুপালী, অগ্রণী ব্যাংকের  অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপার নিউমারারি সমন্বয় করেছে এবং দুই বছরের পদোন্নতি দিয়েছে কিন্তু জনতা অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের আগেই সুপার নিউমারারি সমন্বয় করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পদোন্নতি দেয়নি।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর