সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংস্থাটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ড. নাজনীন আহমেদ অর্থনৈতিক গবেষণা, নীতিগত বিশ্লেষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিপিডির নেতৃত্বে আসছেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুই বছর ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর নিউইয়র্কে ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ব্যুরোতে তিন বছর পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
এর আগে ড. নাজনীন আহমেদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) দীর্ঘ ২৫ বছরের কর্মজীবন সম্পন্ন করেন। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে তিনি গবেষণা সহযোগী হিসেবে বিআইডিএসে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণা পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. নাজনীনের গবেষণা ও নীতিগত আগ্রহের ক্ষেত্র ব্যাপক। তার কাজের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান, সুশাসন, জেন্ডার সমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তার অসংখ্য গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থার বইয়ে তার লেখা অধ্যায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য প্রস্তুত করা গবেষণা প্রতিবেদনও রয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিশ্বব্যাংক, ডিএফআইডি, ইউএনসিটিএডি, আইএলও, আইএফসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আইএফপিআরআই এবং আইডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।
ড. নাজনীন আহমেদ নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি একজন শেভেনিং স্কলারও।
গবেষণায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, গুরুত্বপূর্ণ জননীতি প্রণয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সিপিডির চলমান প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এএইচ/এফএ




