মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সময় প্রয়োজন। জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরশক্তির ওপর প্রাথমিকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, ‘বাজেটে এ খাতের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তাদের সৌরশক্তিতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।’
দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরই হোক, সেগুলো দূর করতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন বাস্তবায়ন সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসায়ী সমাজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সরকার একটি ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘সরকার ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।’
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের নকশা ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো না গেলে সরকারের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প অর্থায়ন বাড়াতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে। কয়েক ধরনের বন্ড চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’
এমআর/এএইচ




