শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফ্লোর প্রাইস কমানোই যথেষ্ট নয়, ফোন কলের প্রকৃত খরচ কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফ্লোর প্রাইস কমানোই যথেষ্ট নয়, ফোন কলের প্রকৃত খরচ কমানোর দাবি
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের লোগো।

মোবাইল ফোনের কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ফ্লোর প্রাইস কমানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। তবে শুধু ফ্লোর প্রাইস কমালেই গ্রাহকের প্রকৃত কল খরচ কমবে না বলে মনে করছে সংগঠনটি। তাদের মতে, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, সারচার্জ, পালস, সেটআপ চার্জসহ অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহক প্রতি মিনিটে বাস্তবে কত টাকা পরিশোধ করছেন, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনার বিষয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল ফোনের কলের ফ্লোর প্রাইস একসময় ২৫ পয়সা ছিল। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা করা হয়। এখন নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই হার কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে ফ্লোর প্রাইস কমানোর সুফল গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে হলে কার্যকর কল খরচ কমানোর পাশাপাশি অপারেটরদের মধ্যে প্রকৃত মূল্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফ্লোর প্রাইস হলো সর্বনিম্ন অনুমোদিত ট্যারিফ। অপারেটররা চাইলে এর চেয়েও বেশি দামে সেবা দিতে পারে। তাই ফ্লোর প্রাইস কমানোর পাশাপাশি গ্রাহক আসলে প্রতি মিনিটে কত টাকা দিচ্ছেন, সেটিই বিবেচনার বিষয়।

তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস কমানোর সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, সারচার্জ, পালস, সেটআপ চার্জ ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ অপরিবর্তিত থাকলে গ্রাহকের মোট বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। একই সঙ্গে অপারেটরদের মধ্যে প্রকৃত মূল্য প্রতিযোগিতা না থাকলে ফ্লোর প্রাইস কমানোর সুফলও গ্রাহক পাবেন না।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ফ্লোর প্রাইস কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকের কার্যকর প্রতি মিনিটের কল খরচ কমানো, প্রতিটি প্যাকেজের ভ্যাটসহ প্রকৃত প্রতি মিনিটের মূল্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ এবং পালস ও সেটআপ চার্জের নামে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো।

এ ছাড়া কোনো ধরনের লুকানো চার্জ না রাখা, কল ড্রপের কারণে গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা করা এবং অপারেটরদের মধ্যে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফ্লোর প্রাইস কমানোর পর তিন ও ছয় মাসের মধ্যে বাজারে গড় কল খরচ কতটা কমেছে, তার প্রকাশ্য মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু ফ্লোর প্রাইস কমানোর ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকবান্ধব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে না। ফ্লোর প্রাইস কমানো দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে কম দামের সেবা গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিই হবে নিয়ন্ত্রক কমিশনের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।

তিনি আরও বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে নিয়ন্ত্রণ কমিশনের উচিত এ বিষয়ে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর