শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মেকং–লানচাং ফল উৎসব শুরু, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যে আগ্রহ চীনা ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

মেকং–লানচাং ফল উৎসব শুরু, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যে আগ্রহ চীনা ব্যবসায়ীদের

চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ মেকং–লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভাল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও ফল ঘিরে স্থানীয় দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। ‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রফতানি’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং–লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে মেকং–লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য নিয়ে ৯৪টি স্টল বসেছে। এতে চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের নিজস্ব ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে।

উৎসবে বাংলাদেশের স্টল ঘিরে শুরু থেকেই দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। এতে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য চীনের বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রফতানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রফতানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি (ফাইটোস্যানিটারি) প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রফতানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউনানকে বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লানচাং–মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মি. লিউ জি, কুনমিংয়ে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হে ই হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি মি. চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল হে ই নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ মি. কে বিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন দেশের স্টল ঘুরে দেখেন। আয়োজকদের আশা, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে এই উৎসব।

কুনমিংয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল ও অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি কেনার সুযোগও পাচ্ছেন।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর