বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘বিএটিবির প্রস্তাব মানলে ২,২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বিএটিবির প্রস্তাব মানলে ২,২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার’

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর যে প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দিয়েছে, তা গ্রহণ করা হলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএনটিটিপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়। 

বিএনটিটিপি জানায়, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যা চেয়েছে, যাতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্য নির্ধারণে আরও স্বাধীনতা পায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে নিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেটে সরকার ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা রাজস্ব হারাবে। সাম্প্রতিক বিক্রির তথ্য অনুযায়ী বিএটিবির ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের সম্ভাব্য বিক্রি প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের ১৮০ কোটি শলাকা। ফলে মোট রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ হাজার ২১১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা নিম্ন স্তর এবং ২৩৯ কোটি টাকা মধ্যম স্তর থেকে কমবে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ৭ জুন জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪ অনুযায়ী বাজারে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানো যাবে না। একক বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে এই নীতিগত সুরক্ষা শিথিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাষ্ট্রীয় করনীতি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কৌশলের ভিত্তিতে পরিবর্তন করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারে, যা সামগ্রিক কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।

বিএনটিটিপি বলেছে, চলতি অর্থবছরে এনবিআর নিম্ন স্তরের সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা করলেও বিএটিবি গত দুই বছর ধরে একই স্তরের সিগারেট ৭২ টাকায় বিক্রি করেছে। এখন বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির যে যুক্তি কোম্পানিটি দিয়েছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কম দামের কারণে বৈধ বাজারের ভেতরেই ভোক্তারা সস্তা ব্র্যান্ডে সরে যাবে এবং সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আরও কমে যেতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিএনটিটিপি নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এনবিআর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে মাত্র ২ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করেছে, যা বর্তমান প্রায় ৮.৬৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির তুলনায় অপর্যাপ্ত। তাই এমন পরিস্থিতিতে সিগারেটের দাম আরও কমানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর